শিরোনাম :
বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। জাফর আহমেদ খোকা মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনীত মিরসরাইয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন বাপ্পি চন্দ্র লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ এম সোলাইমান কাসেমীর এম.ফিল ডিগ্রী অর্জন.. শ্রমিক নেতা গোলাম মাওলার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বাধ্যবাধকতা ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের শাহ্ আবদুল মালেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণের দাবি জাহাজী প্রবিন নেতা আবুল কাসেম সারেং এর ইন্তেকাল লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে এ অংশ নিতে নৌবাহিনীর ৭৫ সদস্যের চট্টগ্রাম ত্যাগ

নির্বাহী সম্পাদকের ঈদ শুভেচ্ছা ও উপ-সম্পাদকীয়

উপ-সম্পাদকীয়

কোরবানির মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত কল্যাণ অর্জিত হউক || ঈদ মোবারক

মহিউদ্দীন ওসমানী: চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের সর্বস্তরের সকল সদস্য, পাঠক, শুভাকাংক্ষীসহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুুুল আজহার শুভেচ্ছা। বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে উপস্থিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা, পবিত্র জিলহজ মাস। এই জিলহজ মাসে রয়েছে নেক আমলের অভাবনীয় অনেক সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম কোরবানি।

শিয়ারে ইসলাম বা ইসলামের মৌলিক নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত এই কোরবানি। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ তথা ঈদুল আজহার দিন ইয়াউমুন নাহর বা কোরবানির দিবস। এই তারিখে মুসলমানরা কোরবানি করেন এবং ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।

এ সময়টি মুসলমানদের কাছে খুবই আবেগ ও উদ্দীপনার।আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকবেন এর চেয়ে আনন্দের বিষয়, এর চেয়ে সহজ সুন্দর বিষয় আর কি হতে পারে।

কোরবানির পরিচয় হলো- এটি আল্লাহর এবাদত। যার প্রাণ বা মূলকথা আল্লাহর জিকির তথা স্মরণ। নবী হজরত ইবরাহীম (আ.) কর্তৃক আপন প্রাণপ্রিয় হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে নিয়ে যাওয়ার এক অপূর্ব স্মৃতিচারণ। এটা যেন সে কথারই প্রতিচ্ছবি যে, বান্দার কাছে সবচেয়ে বড় হলো তার প্রিয়তম রব ও মনিব মহান আল্লাহতায়ালার হুকুম।

আল্লাহতায়ালার হুকুমের সামনে কোনো কিছুই তার কাছে কোনো অর্থবহ নয়। কোরবানির মধ্যে এই শিক্ষা রয়েছে যে, আল্লাহই একমাত্র উপাস্য আর কোনো রব ও পরওয়ারদিগার নেই। তার কোনো শরিক নেই। তার আনুগত্যের বিপরীতে আর কারও আনুগত্য নেই।

আমাদের নিজস্ব রুচি-অভিরুচি, বিচার-বিবেচনাকে আল্লাহর হুকুমের সামনে বিসর্জন দেওয়াই কোরবানির শিক্ষা। সকল মত-মতবাদ থেকে বিমুখ হয়ে আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়া এবং এক আল্লাহর আনুগত্যকে নিজের জীবনের সেরা ধার্য করার শিক্ষার স্মরণ করিয়ে দেয় ঈদুল আজহা।

এই সত্য গভীরভাবে উপলব্ধির প্রয়োজন। এই সত্যের উপলব্ধি অর্জিত হলে ইসলামের অনুষঙ্গগুলোর জাগতিক মূল্য অনুধাবন করা সহজ হবে।

বিশেষত বর্তমান প্রেক্ষাপটে। অর্থাৎ চলমান করোনা পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতিকালীন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট, অভাব ও দারিদ্র্যের সময়ে। কারও কাছে এই সময়ে মনে হতে পারে যে, প্রতিবছরই তো কোরবানি করা হয়। এই বছর কোরবানি না করে এই টাকাটা দান করে দেওয়াআপাতদৃষ্টিতে কারও কাছে কথাটা সুন্দর মনে হলেও মূলত কথাটি অসার ও তাৎপর্যহীন।

গভীরভাবে লক্ষ্য করা হয়, তা হলে দেখা যাবে, আল্লাহর হুকুম পালন করার মধ্য দিয়েই একজন মুসলিমের পক্ষে সমাজ ও মানবকল্যাণে অংশগ্রহণ করার সুযোগ বেশি রয়েছে।

মূলত কোরবানির মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর আনুগত্যের যে শিক্ষা অর্জন করে, সেই শিক্ষা বাস্তবজীবনে তাকে মানুষের কল্যাণে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও বেশি পরিমাণে সৃষ্টি করে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অর্থ তো আল্লাহরই দান।

আল্লাহ প্রদত্ত অর্থ যদি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ব্যয় হয়, সেটিই তো অর্থের যথার্থ ব্যবহার। মুসলিম কি আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে দিয়ে অর্থ সংরক্ষণকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে? তাই কোরবানির বিকল্প হিসেবে নিছক কিছু অর্থ প্রদানের সুযোগ না খুঁজে কোরবানির শিক্ষাকে ধারণ করে সামগ্রিকভাবে সমাজকল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত।

একজন মুসলিমের জীবনে ইসলামি অর্থনীতিবোধ তৈরি হলেই কেবল বাস্তবিকভাবে তার মাধ্যমে সমাজকল্যাণ অধিকতর সম্ভব হবে।

নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল-

১. ইসলামে যাকাত একটা ইবাদত।  যাকাত প্রদানের মাধ্যমেই দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব।

২. ইসলামের সদকার বিধান আবশ্যকীয় যাকাতের পাশাপাশি মানব ও সমাজকল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. অন্যায়-অনাচারের ক্ষেত্রে অর্থব্যয়ের ইসলামে নিষেধাজ্ঞা। এটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিস্তৃত অধ্যায়। মদ, জুয়া, নাচ-গান, সীমাতিরিক্ত সৌখিনতা ও সজ্জা, অপ্রয়োজনীয় পর্ব উৎসবে ব্যয় করা, অপব্যয়-অপচয় ও সম্পদহানি ইসলামে নিষিদ্ধ।

ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এই নিষিদ্ধ সম্পদ ব্যয়ের উদাহরণ তো দুঃখজনকভাবে বর্ণনাতীত। অথচ সম্পদ ব্যয়ের এই নিষিদ্ধ ক্ষেত্রগুলো বন্ধ হলে অর্থাভাবে মানবকল্যাণের যে ভালো কাজগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও সামষ্টিক পর্যায়ে অসম্পন্ন থাকছে, তা সম্পন্ন করা সহজ হতো।

৪. এ ছাড়া ইবাদতের মূল হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। তাই একাধিক পশু এবং বড় পশু জবেহ করার মধ্যেও যেমন একনিষ্ঠতার চর্চা করা উচিত। লোক দেখানোর জন্য না করা, সব কিছুকে আল্লাহর জন্যই করার উপলব্ধি লালন করা উচিত। তেমন ছোট পশু বা শরিকানা কোরবানির মাঝেও এটি চর্চা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেন লোকে কী বলবে এজন্য বড় পশু ক্রয় করার মনোভাব তৈরি না হয়।

এই একনিষ্ঠতা ও লিল্লাহিয়াতের সঙ্গে কেউ যদি ওয়াজিব কোরবানি আদায় করে এবং সেই ক্ষেত্রে মধ্যম ধরনের পশু বা শরিকানা কোরবানির মধ্যেই ক্ষান্ত থাকে। এবং নফল কোরবানি ও একাধিক কোরবানির পরিবর্তে অতিরিক্ত টাকা বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মানবকল্যাণে দান করে। তবে অবশ্যই সেটি প্রশংসার যোগ্য ও নন্দিত। এবং আশা করা যায় আল্লাহ তাআলার কাছেও এটি পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য আমল হিসেবে পরিগণিত হবে । আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ।

মোটকথা, আল্লাহতায়ালার এই মহান হুকুম কোরবানির পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে নয়, বরং মহান আল্লাহর হুকুম পালন করার মাধ্যমেই ইহ-পরকালের সব সংকট থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।

তাই কোরবানির প্রতি নিরুৎসাহিত করা নয়, বরং এই মহান ইবাদতগুলোর প্রতি আরও উৎসাহিত করে এই ইবাদতের শিক্ষাজীবনে ধারণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা উচিত। এতেই মানব ও সমাজের প্রকৃত কল্যাণ অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষক বাতায়ন থেক

(Visited 34 times, 1 visits today)