অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন : ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চেক ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাবকে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, “মানুষ মানুষের জন্য” শতসিদ্ধ এ কথাটি পর্যায়ক্রমে আমরা এখন ভুলেই গেছি। এখন আমরা অনেকটা নিজেই নিজের জন্য। কিন্তু বৈশ্যিক মহামারি এই করোনা আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে। তদুপরি এই করোনাকালে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন গরীব ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা শিখিয়েছে। করোনায় চরম বিপর্যয়ের ওই সময়ে নিষ্ঠার স্বেচ্ছাসেবকরা জীবনবাজি রেখে রোগীদের সেবা ও দাফন-কাফনের কাজ করেছেন, তা অবিস্বরণীয়।

জনকল্যাণমূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায় অসুস্থদের অনুদানের চেক ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুর হোসাইন। সংগঠক মুহাম্মদ কফিল উদ্দিনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আরিফ উদ্দিন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, করোনা আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- বিপদের সময় তুমি একা। করোনাকালে পিতা সন্তানকে, সন্তান পিতাকে, স্বজন প্রিয়জনকে ফেলে যাওয়ার মত অনেক ঘটনাই ঘটেছে। কে কার কত বেশি আপন তা করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের সেবাগুলো প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সবার কাছেই এগুলো সমাদৃত হয়েছে। দাফন-কাফন ও সৎকারের কাজটি অনেক সাহসী ও যুযোপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল। যারা এক কাজে যুক্ত ছিলেন তাদের অভিনন্দন জানাই। তাছাড়া, কোরবানী সেবা প্রকল্পটিও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এ সেবার কারণে অনেক মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি করতে পেরেছেন।

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, করোনা সংক্রমণ কমেনি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এখন সামাজিক সংক্রমণ হিসাবে দেখা দিচ্ছে। তাই এ মুহুর্তে আমি মনে করি, জাতীয় স্বার্থে ভারতীয় গরু আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা উচিত। কারণ একটি কোরবানির পশুর গাড়ির সঙ্গে কেবল গরু-মহিষ নয়, সঙ্গে অনেক মানুষও জড়িত। তাই ভারতীয় পশু যদি আসে, তাহলে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়াতে পারে।
খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সমাজ, সমাজের মানুষের মানসিকতা, মানুষের অনৈতিক কাজ বন্ধ, মানুষের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাবসহ এ জাতীয় নেতিবাচক আচরণ বন্ধে করোনার মত একটি বৈশি^ক মহামারির ধাক্কার দরকার ছিল। আমি মনে করি, আল্লাহ মানবজাতির সংশোধনের জন্য এই মহামারি দিয়েছেন। তবে কেন জানি মনে হয়, করোনাও মানুষকে বদলাতে পারেনি, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনটা আসেনি। ফলে মানুষ এখনও দুর্নীতি-অনিয়ম অব্যাহত রেখেছে। যা খুবই দুঃখজনক।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুর হোসাইন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন কাফন-দাফন, এ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সেবা, খাদ্য সামগ্রি বিতরণ ও সচেতনতা সৃষ্টিসহ মানবকল্যাণমূলক কাজগুলো করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা, একজনকে ঢেউ টিন প্রদান এবং একজন গৃহহীনকে ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতায় নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের এসব মানবিক কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

(Visited 12 times, 1 visits today)