মহিলাদের এতেকাফ করা কতটা জরুরী

ছবি: পারভীন আক্তার -চট্টগ্রাম ট্রিবিউন
ছবি: পারভীন আক্তার -চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

পারভীন আক্তার: এতেকাফ অর্থ আবদ্ধ থাকা। ইসলামী পরিভাষায় নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নিবিষ্ট মনে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার নিমিত্তে নিজেকে দুনিয়াবি সকল কর্ম থেকে বিরত থাকা।একটি নির্মোহ, আল্লাহর হেদায়তে আলোর পাওয়ার জন্যই ইতেকাফ করা খুবই জরুরী।এক মনে গভীর তপস্যা করার জন্য একাকী নির্জনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও এই ক্ষণস্থায়ী রঙিন পোশাক পরা দুনিয়া থেকে নিজেকে শুদ্ধ করার জন্য এতেকাফ খুবই কার্যকরী পদ্ধতি বলে মনে করি।আর এমনিতেই নারীরা পুরুষের তুলনায় কম ইবাদত করেন বিভিন্ন তথ্য সূত্র তাই বলে। কোন মহিলা যদি আল্লাহর হেদায়ত প্রাপ্ত হন এবং নিজ থেকে এতেকাফ করতে চান তাহলে পরিবার বা স্বামীর সার্বিক সহযোগিতা করা উচিত বৈকি।কারণ পরিবারের সাপোর্ট ছাড়া এতেকাফ,নিবিষ্ট মনে ইবাদত করার সুযোগ নেই।সংসারের অনেক কাজ যা নারীকেই একা সামলাতে হয়।বিশেষ করে রান্নাবান্না।মাত্র দশটি দিন পরিবার যদি এতে সহযোগিতা করে তাহলে যেকোন বয়সে একজন নারী ইতেকাফ পালন করতে সমর্থ। এতে পরিবার তথা সমাজ,রাষ্ট্র, সর্বোপরি পৃথিবীর শান্তি আনায়নে সততার চর্চার তুলনা আর কী হতে পারে।খোদার কাছে সবার জন্য নাজাতের প্রার্থনা কখনোই বৃথা যাবে না যদি অন্তর দিয়ে খোদাকে ডাকা সম্ভব হয়।লোক দেখানো ইবাদতে কোন ভাল ফলাফল পাওয়া যায় না।নিজে ইতেকাফ করুন এবং অন্যকেই উৎসাহ প্রদান করুন।মহিলাদের এতেকাফ করা মুস্তাহাব। পুরুষের সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।আল্লাহ ক্ষমাশীল।হে খোদা,আমাদের ক্ষমা করুন,আমিন।

এতেকাফ থাকা কালে মহিলাদের করণীয়: ০১. মহিলারা বাড়ীতেই এতেকাফ করাই শ্রেয়।মসজিতে নারীদের সেই রকম সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলে মসজিদে করা যায়। তবে বাড়ীতেই ভালো।

০২. মহিলারা এতেকাফের সময় সাংসারিক কাজ কর্ম করতে পারবেন না।অর্থাৎ দুনিয়াবি কোন কাজে মনোযোগী হওয়া যাবে না।

০৩. একটি নির্দিষ্ট ঘরে অবস্থান পূর্বক ইবাদত বন্দেগি করতে হবে।

০৪। উচ্চস্বরে কথা বলা যাবে না।

০৫. দিনরাত সবটুকু সময় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে।জিকির করতে হবে।পবিত্র কোরআন পড়ে আল্লাহর কাছে মনের সত্যিকার কান্নায় তওবা করতে হবে।

০৬. স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। তিনি যদি বাঁধা দেন সাংসারিক কাজ কে করবে, দেখাশোনা করার জন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।তবে তিনি আর বারণ করতে পারবেন না।

০৭. মোবাইল,ফেসবুক এসব ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তবে একান্ত প্রয়োজনে মোবাইলে অল্প সময় কথা বলা যাবে যা না হলেই নয়।

০৮. প্রয়োজনীয় গোসল,ওয়াসরুম ব্যবহার ব্যথিত নিজ এতেকাফ রুম থেকে বের হওয়া যাবে না।কোন বাইরের লোকের দর্শন দেয়া যাবে না।ব্যস এইটুকুতেই আল্লাহর নেয়ামত পাওয়া সম্ভব।

এই পৃথিবীতে এতো অশান্তি, মহামারী কেন জানেন?একমাত্র আল্লাহর সাথে গাদ্দারী করার ফসল এসব।তাই কায়মনে ইবাদত করুন। সবাইকে তাঁর কাছেই যেতে হবে। কোন উপায় নেই। তাই দুনিয়া করে করে আখিরাত ধ্বংস করবেন না। হেদায়তের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য করোনা এসেছে। মুহুর্তেই মৃত্যু নিশ্চিত করছে করোনা। ব্যাপারটা একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন। মানুষ ছাড়া কাউকেই করোনা ধরাশায়ী করছে না। আর কোন প্রাণীর প্রাণ নয় শুধুই মানুষের নোংরামী, হারাম কাজের কারণেই তাদের বধ করা হচ্ছে।কয়েকদিন আগেও আমি দুনিয়া নিয়ে পড়েছিলাম।

নামদাম কামাই করা,গাড়ি-বাড়ির জন্য,ভাল থাকার জন্য যুদ্ধ করছি। কখনো খোদাকে পেতে চাইনি, দুনিয়াকেই আসল ভেবেছি। শয়তান ভর করেছিল দুনিয়াকে প্রাধান্য দিতে। তবে ক্বলবে খোদাকে বসিয়ে রাখি। একটি ঐতিহ্যবাহী ইসালমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।জানতাম তিনি একদিন অবশ্যই হেদায়ত করবেন।আমি আলোর পথে এসেছি। কখনোই ভাবিনি এত সহসা ইতেকাফ করবো।আল্লাহ সেই ইচ্ছাশক্তি আমার ভিতর জাগ্রত করেছেন,আলহামদুলিল্লাহ। ধীরে ধীরে নিজেকে ইসলামী তরিকতে নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ।কায়মনে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইছি। আর দাপট দেখিয়ে কী হবে? দুই দিনের দুনিয়া। আজ আছি তো কাল নেই। কী হবে এই রঙের পৃথিবীর লোভ করে? গাড়ি বাড়ি দিয়ে কী করবো? কিছুই তো মৃত্যুকে আটকাতে পারবে না। আমরাতো খুব অসহায়। ধড়ফড় করতে করতে মানুষ মরছে। কেউ কাউকে বাঁচানোর সুযোগ নেই। তাই এটাই সর্বশেষ প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনিই আমাদের পালনকর্তা, রক্ষাকারী, নাজাতদানকারী। আল্লাহ সবাইকে হেদায়তের পথে নিয়ে যান, মুক্তির পথ দেখাবেন ইনশাআল্লাহ।
লেখক: শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম।
০২মে, ২০২১(১৯ রোজা)

(Visited 15 times, 1 visits today)