ফিতরা ও ঈদুল ফিতর : মাওলানা নুর আলম তৌহিদ

নুর আলম তোহিদি

বিশেষ নিবন্ধ: সাদকাতুল ফিতর মুসলিম সামাজিক অর্থনীতির একটি অংশ।যে কোন সাদাকাহ বিপদ দূর করে।আল্লাহর গোস্বাকে নিভিয়ে দেয়।সাধারণত ঈদুল ফিতরের দিন সুবেহ সাদিকের সময় ফিতরাহ ওয়াজিব হয়।তবে কেউ আরো আগে ফিতরাহ দিলে-ও আদায় হবে।ঈদের সালাতের পূর্বে ফিতরা দেয়া মুস্তাহাব। পরেও দিতে পারে।সিয়ামের দোষ ত্রুটি ক্ষমার জন্য ফিতরা দিতে হয়।ফিতরা সিয়ামের যাকাত। আবু দাউদের একটি হাদীসে এসেছে ফিতরা এজন্যই যে যাতে গরীবরা খাদ্য লাভ করতে পারে। ঈদের পূর্বে ফিতরা দিলে তা মকবুল যাকাত রুপে গন্য হবে,পরে দিলে তা হবে দান।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন- “রাসূল সাঃ এর যুগে আমরা এক সা’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) খাদ্য,অথবা যব,অথবা খেজুর, অথবা পনির,অথবা কিসমিস ফিতরা হিসেবে দিতাম।( বোখারী)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আসমা বিনতু আবুবকর রাঃ বলেন,রাসূল সাঃ এর যুগে আমরা ফিতরা হিসেবে দুই মুদ্দ(১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) গম দিতাম।
উপরের বর্ণনা মতে গমের হিসেবে কম পক্ষে ফিতরা স্বরূপ ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম,আটা,বা ময়দা অথবা তার দাম দিয়ে দিলে ফিতরা আদায় হ’য়ে যায়। তবে সামর্থ্য থাকলে পনির, খেজুর, কিসমিসের হিসেবে ফিতরা দিলে গরীবেরা বেশী উপকৃত হয়।সামর্থবানেরা সবাই গমের হিসেবে ফিতরা দিলে তা ইনসাফ ও ত্যাগের পর্যায়ে পড়েনা।এ হতে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।সে হিসেবে এবছর ইসলামিক ফাউণ্ডেশন সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করেছে। আর রাসূল সাঃ যেহেতু খেজুর দিয়ে ফিতরা দিয়েছেন খেজুর কে রাসূল সাঃ বেশি ভালোও বাসতেন তাই খেজুর দিয়ে ফিতরা দেয়ারও চেষ্টা করা যেতে পারে।বিশেষ করে ধনাঢ্য ব্যক্তি বর্গ তা পারেন।
সায়িম বা যারা সিয়াম পালন করেননি সকলেই আকেল,বালেগ, মুছলিম ও মালিকে নিসাব হলে নিজের ও নিজের নাবালেগ সন্তানের পক্ষে ফিতরা দেয়া ওয়াজিব। মালিকে নিসাব নাহলেও ফিতরা দিলে সাওয়াব পাবে।মনে রাখতে হবে ফিতরার জন্য সম্পদ এক বছর অতিবাহিত হতে হয়না।ঈদের দিন সোবেহ সাদিকের সময় নিসাব সমান সম্পদ থাকলেই তাকে ফিতরা দিতে হয়।তবে যাকাতের জন্য নির্ধারীত সম্পদ একবছর কাল অতিবাহিত হওয়া লাগে।
যারা যাকাত খেতে পারে তারা ফিতরাও পেতে পারে।তবে নিকটাত্মীয়, গরীব মিছকিনই এর বেশি হকদার।বিজ্ঞজনের মতে নেককার,আলেম,তালেবে ইলম,দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে ফিতরা দিলে অধিক ফায়দা হয়।তবে যথাযোগ্য খাত যাচাই করেই ফিতরা যাকাত দেয়া উচিত।
রমজানের শেষ কয়েক দিনে বা ঈদের দিন ঈদে গমনের পূর্বে ফিতরা দিতে হয়।বিশেষ কারণে ঈদের পরেও দেয়া যায়।তবে ইচ্ছে করে সে রকম করবেনা।১ টি ফিতরা কয়েকজন কে কয়েকটি ফিতরা ১ জনকেও দেয়া যায়।যেহেতু ফিতরার উদ্যেশ্য গরীবের খাদ্য লাভ সেটিও ফিতরা দিতে খেয়ালে রাখতে হবে।অর্থাৎ একেবারেকম দিলেতো খাদ্য মিলবেনা।
যারা কখনো সুস্হ হয়ে সিয়াম রাখতে পারবেনা,বা যারা একেবারে বৃদ্বও অক্ষম হয়ে গেছে,সিয়াম পালনের সুযোগ আর হবেনা এটি নিশ্চিত হ’য়ে যায় তারা প্রতি সওমের জন্যে ১ টি করে ফিতরা দিতে হয় যাকে ফিদিয়া বলে।হ্যাঁ এরুপ লোকও যদি সুস্হ হয়ে যায়? তাহলে পরে এ সওম গুলোর কাজা করতে হবে।
ঈদুল ফিতর:  ঈদ মানে আনন্দ ও খুশি। ঈদ মানে বার বার ফিরে আসা।সিয়াম ভঙ্গের ঈদ ও ফিতরার মাধ্যমে ঈদ আসে বলে একে ঈদুল ফিতর বলে।এদিনটি আত্ন সমালোচনার ও বটে।যেমন ঈদুল ফিতরের সকালে ওমর রাঃ কেন কেঁদেছিলেন তা সকলেরই জানা থাকার কথা।মহা নবী সাঃ বলেন,” প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ আছে,আমাদের আনন্দ এ ঈদ।”( বোখারী, মুছলিম) আসলে ঈদুল ফিতরেরআনন্দ প্রকৃত সিয়াম পালন কারীরাই টের পায়।এ আনন্দ আত্মিক বস্তু গত নয়। রমজানে সায়িম যত নিয়া মাত লাভ করে তা ঈদের দিনে তার মুখাবয়বে ফুটে ওঠে। পোশাক সায়িমের জন্যে ঈদের দিনে গৌন বিষয়।এ আনন্দ নির্ভেজাল ও পবিত্র ইবাদত। আনন্দ করতে গিয়ে সায়িম নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করেনা।হুজুর সাঃ এদিন বিজোড় সংখ্যায় খেজুর না খেয়ে ঈদের উদ্যেশ্যে বেরুতেননা।( বোখারী) নবীজি ঈদের দিনে পথ বদল করে ঈদে আসা যাওয়া করতেন। (বোখারী) আল্লাহ পাক ফেরেস্তাদের স্বাক্ষী করে ঈদুল ফিতরের দিন সায়িমদের মজুরি দেন,দোয়া কবুল করেন,মাফ করেন,পাপগুলোকে পূন্যে পরিণত করে দেন ও নিষ্পাপ করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেন।( বায়হাকী)
পরিশেষে দোয়া করছি, আল্লাহ যেন বিশ্ব মুসলিমদের রমজানের শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সুযোগ করে দেন।বিশ্বের২ শ কৌটি মুছলিম,মজলুম দায়ীগণ,উলামায়ে দ্বীন গণ,নির্যাতিত মুছলিম নর নারী গণ সহ সবাইকে হেফাজত করেন।আল্লাহ যেন মুছলিম দের ইজ্জাত, প্রভাব,শক্তি,
স্বাধীনতা, যোগ্যতা, সততা, ক্ষমতা, নৈতিকতা, একতা, বুদ্ধিমত্তা,  প্রজ্ঞা, সামরিক আধিপত্য, ঈমানী চেতনা, সাহস, বীরত্ব সবকিছুতে বরকত দান করেন।আমিন।
(Visited 10 times, 1 visits today)