অপরিকল্পিত লকডাউন : বিভ্রান্তির দোলাচলে জনগণ

ইব্রাহীম আখতারী: আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজানের রোজা। ইসলামী শরিয়াহ’র এ আবশ্যকীয় বিষয়টির উৎসবমুখর সেলিব্রেশন মুসলিম উম্মাহ এর নিকট অতিমাত্রায় কাঙ্খিত। কিন্তু বিধি বাম! এবারকার রোজা পালনে চিরায়ত সে আনন্দ-উচ্ছাস একেবারেই ফিকে হয়ে গেছে। কারণ রোজার পদধ্বনির সাথে সাথে হঠাৎ ক্ষেপে উঠে বৈশ্বিক মহামারি করোনা নামক অভিশপ্ত ভাইরাস। যার ভয়ানক চোখ রাঙ্গানীতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে তাবৎ দুনিয়া। গোটা বিশ্ব জনপদই এখন আতংকের জনপদে পরিণত হয়। ফলে আবারও পাল্টে যায় বিশ্বচিত্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পূনরায় ধাবিত হয় লকডাউনের দিকে। ব্যতিক্রম হয়নি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও।
প্রথম রোজা থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষনা দেয়া হয় কঠোর লকডাউনের। এমনিতর বিষ্ফোরোন্মুখ পরিস্থিতিতে লকডাউনের আবশ্যকীয়তা এড়ানো না গেলেও কিন্তু সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কিছু নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে বলে বিদগ্ধ মহলের ধারণা। ইতোপূর্বে প্রথম দফার লকডাউনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রায় ১লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকারও অধিক প্রনোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে। অথচ এবারকার লকডাউনে অনুরূপ কোন ঘোষনা দেয়া হয়নি। যা ইতোমধ্যেই জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এ কথা কোনভাবেই বিস্মৃত হবার নয় যে, ১ম দফা লকডাউনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া অসংখ্য মানুষের মেরুদণ্ড এখনো সোজা হয়নি। এতদসত্ত্বেও জনগণ ২য় দফা লকডাউন এর অবাঞ্ছিত শিকারে পরিণত হলে বিশেষতঃ দিনমজুর-শ্রমজীবি ও গরীব-দুস্থ মানুষের কি অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কেননা জীবন-জীবিকা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে কোনভাবেই কারও জীবন বিপন্ন করা তো যাবে না। তাই অপরিকল্পিত লকডাউন জাতীয় জীবনে কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয়না।
যাইহোক, লকডাউনে যেসব নির্দেশনা রয়েছে,তন্মধ্যে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। যেটি নিয়ে ধর্মানুরাগী মানুষের মনে নানাবিধ প্রশ্নের উদ্রেক করছে। কেননা সরকার একদিকে গার্মেন্টস, শিল্প-কল কারখানা খোলা রেখেছে, অপরদিকে ধর্মকর্ম পালনে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি কল-কারখানায় কাজ করা যায়, তাহলে মসজিদেও তো অনুরূপ করা যায়। এ জাতীয় কিছু বিভ্রান্তির দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ। তাই এতদসংক্রান্ত বিষয়াদি পূনর্বিবেচনা করে একটি কার্যকর নির্দেশনা দেয়া খুবই জরুরী।
লেখক: প্রাবন্ধিক ও রাজনীতিবিদ।
(Visited 26 times, 1 visits today)