স্যোসাল মিডিয়া নিজেকে তৈরি করার অনন্য মাধ্যম

ছবি: পারভীন আক্তার -চট্টগ্রাম ট্রিবিউন
ছবি: পারভীন আক্তার -চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

পারভীন আকতার: স্যোসাল মিডিয়া মানুষের এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি। পুরো পৃথিবী হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে আকাশ ইথার ব্যবহার করে মানুষই।এজন্যই কৃতজ্ঞতার শেষ নেই স্রষ্টার এই শ্রেষ্ঠ মেধা দীপ্ত সৃষ্টির প্রতি।যেখানে ইচ্ছে যাওয়া যায় হাতের একটি মোবাইল নিয়ে।কোন তার নেই,বাড়তি ঝামেলা নেই।মাঝে মাঝে আমার এমনও মনে হয় মানুষ মুখ দিয়ে এখানে কথা বলবে আর বিশ্বের অন্য প্রান্তে শোনা যাবে।মুখই হবে সেন্সর!ভাবা যায়!সামনে বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এই পর্যায়ে আমাদের নিয়ে যাবে আশা করি।পৃথিবীতে মানুষ এখন শুধু স্বপ্ন দেখে না;তার দ্রুত বাস্তবায়নের কৌশলও বের করে ফেলে জ্ঞান তপস্যা দিয়ে।
আমি সবসময় নিজের উদাহরণ দিয়ে লিখি।কারণ আমার জীবনে আমি যা পদে পদে দেখেছি,ঘনিষ্ঠভাবে অনুভব করেছি তা অন্যের জীবনের সাথে তুলনা করার সেই ক্ষমতা আমার কম।কারণ জনে জনের জীবনে,মনে প্রবেশ করা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়।বেশি হলে দুই একজনের জীবন দেখা যায়, সবার নয়।ঘটনা,চলা বলা দেখেই আমরা কেবল অনুভব করি।সেজন্যইতো দোষী নির্দোষী প্রমাান করতে কোর্টে কালান্তর সময় লাগে।কেউ অপরাধী না হয়েও জেল খাটে।প্রমাণ করতে ব্যর্থ;প্রমাণ করার রসদ নেই তেমন।যা-ই হোক আমি খুবই কাকতালীয়ভাবে আমার বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছি।আমাকে তৈরি হতে সাহায্য করেছে স্যোসাল মিডিয়া।আমার সবদিকে বিপরীত স্রোত!আমি একাই ধীরে ধীরে স্যোসাল মিডিয়া চালাতে শিখেছি।ভাল ভাল মানুষের সাথে যুক্ত হতে পেরেছি।আজ দেশ-বিদেশে আমার লেখা,ছবি ছাপানো হয়।তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে স্যোসাল মিডিয়ার কারণে।ভয়কে।জয় করেছি।নিষ্ঠা সাথে যত্ম নিয়ে লিখে যাচ্ছি।পরম করুণাময় আকাশকে আমার জন্য উদারভাবে খুলে দিয়েছেন ইথারকে কথা শুনতে বলে দিয়েছেন।আমার সততা,শ্রম আর প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এই স্যোসাল মিডিয়া।নিজেকে তৈরি করুন মন মতো করে।সব পথ খোলা।ভাল খারাপ চোখের সামনেই।বেছে নেয়ার দায়িত্ব আপনার মেধা,শ্রম, রুচি আর বাস্তবিক জ্ঞানের।
স্যোসাল মিডিয়ার যথেচ্ছা ব্যবহার করে কিছু কুরুচির মানুষ।তারা কী ভাবে?প্রচার প্রসারের উন্মাদনায় তারা  মরিয়া।শরীরের অঙ্গসৌষ্ঠব প্রলুব্ধকারীকে দেখিয়ে কাজ আদায় করে।পরম স্বার্থের দৃষ্টিকোণে গড়ে তুলে অযাচিত সম্পর্ক।বিখ্যাত হওয়ার নেশা,প্রতিষ্ঠা পাওয়ার তাড়না।এজন্যই সমাজে অবক্ষয় নেমে আসছে কারণ আজ আর সার্চ ইঞ্জিন খুঁজতে হয় না।এমনিই ইন্টারনেট খুল্লেই সেটিংসের কারণে আজেবাজে আপলোটেড ভিডিও চলে আসে।আবার এখন লাইকি,টিকটক কতকিছু বের হয়েছে বাজারের সাজিয়ে রাখা পোশাকের মতোই!তরুণ সমাজ এসবে সময় ব্যয় করছে।আসল কাজটি হচ্ছে না আর।বই থেকে শুরু করে সৃজনশীল সব জ্ঞান ভান্ডার আকাশে সব আছে!কয়জনে পড়ে।মাঝে মাঝে এমনও দেখি কেউ কেউ এমন আপত্তিকর ভিডিও পাাঠান, আমি অবাক হয়ে যাই।আমার ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। তারাও কমবেশি সব বুঝে প্রযুক্তি দেবীর বদান্যতায়।কী বলবো আর! মেয়ে একদিন দেখে ফেলেছে এমন দুর্গন্ধী ভিডিও।আমার চোখে পড়লে সাথে সাথে ডিলিট করে দিই আর যে পাঠালো সাথে সাথে তাকেই ব্লক করি।এমন কুরুচির মানুষ থেকে আমার শেখার মতো কিছুই নেই।নেটের দুনিয়া এটা অবাধ বিচরণ সবার।মেনে নিয়েছি।এমন আসবে  শত শত,নিজেকেই সচেতন থাকতে হবে।সেদিন অথচ আমি নিজেই জানিনা কে, কখন আমাকে এই বিষাক্ত বিষ দিয়েছে!আমার মেয়ে মাথা নীচু করে থাকে।চোখ বন্ধ করে থাকে।কাঁদে।কারণ এটা খারাপ সে বুঝে গেছে।তার বাবা থাকে প্রবাসে।তার বাবা মাকে এক ঘরে দেখিনি এখনো।সেই পবিত্র শিশু এটা কেমনে মেনে নেবে?মানুষ কেমন চিন্তা করেন।সুযোগ পেয়েছি বলেই সবকিছু অচেনা একজন মানুষকে শেয়ার করার কী দরকার?আর এটা তো প্রাকৃতিক বিষয়।ভিডিও করে দেখানোর কী মর্মার্থ আমি এখনো বুঝিনা!কী ভয়ংকর আকাশ ইথারে দূষণ ছড়াচ্ছি আমরা!একদিন গজবে এটাও বন্ধ হলো বলে! চোখে পানি ছলছল করে।সন্তান,পরিবারের সামনে ভুক্তভোগী  হয় ভিলেন,নষ্টা।অথচ আকাশকে ঢেকে রাখার,আয়ত্ত্বে রাখার সামর্থ্য কেউ রাখে না।এটাই আমাদের বুঝতে হবে।ইচ্ছে করে কেউ খারাপ হয় না।সঙ্গদোষে খারাপ বা ভাল হয়।আর স্যোসাল মিডিয়া আমাদের সেই নিঃসঙ্গ জীবনের চব্বিশ ঘন্টার সঙ্গী এখন।এখন ব্যবহার একান্তই নিজের উপর। কমান্ডের অপেক্ষা!
লেখক: শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক। 
চট্টগ্রাম। pervinakter474@gmail.com
(Visited 8 times, 1 visits today)