চট্টগ্রাম নগরে ইসলামিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ মিছিল

মুহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী: ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর বলেছেন-সম্প্রতি ভারতে পবিত্র কোরআনের আয়াত পরিবর্তনে রিট ও শ্রীলংকায় নারী পর্দা নিষিদ্ধকরণের ঘোষনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয় বরং উভয়টি একই সূত্রে গাঁথা। যা বিশ্ব্যাপী ইসলাম বিরোধী এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অনস্বীকার্য বাস্তবতা হলো, সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে এ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআনুল করিম সম্পর্কে আঙ্গুল তুলতে অনেক বিজ্ঞানী,গবেষক কতই না অপচেষ্টা করেছে। অথচ এক্ষেত্রে সফল হওয়া তো দুরের কথা বরং সকলেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে এ মহাগ্রন্থের বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য হয়েছে। কেননা এ পবিত্র ঐশিগ্রন্থ কস্মিনকালেও পরিবর্তনযোগ্য নয়। এটি মহাপ্রলয় পর্যন্ত অপরিবর্তিত, অম্লান ও অক্ষয় থাকবে। বিশ্ব ব্রম্মাণ্ডের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষনা, এটি এমন একটি ঐশিগ্রন্থ, যেথায় কখনও পরিবর্তন-পরিবর্ধন কিংবা সংশোধন-বিয়োজন এর প্রয়োজন পড়বে না।

অতএব জনৈক একজন ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক এ পবিত্র গ্রন্থের ২৬ টি আয়াত পরিবর্তনে উচ্চ আদালতে রিট এর বিষয়টি এক চরম ধৃষ্টতা বৈ আর কিছুই নয়। যা ঐ ভারতীয়দের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। এধরনের ঘৃন্য কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে উপমহাদেশে উত্থাপ ছড়াবে। সাম্প্রদায়িক হানাহানি ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। বিনষ্ট হবে আঞ্চলিক তথা প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক ও স্থিতিশীলতা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে কৌশলী ভূমিকায় কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ গর্হিত কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকতে ভারত সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার আহবান জানান।

তিনি অদ্য শুক্রবার বাদ জুমা জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদ হতে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত ভারতে পবিত্র কোরআনের আয়াত পরিবর্তনে উচ্চ আদালতে রিট, শ্রীলংকায় নারীদের পর্দা অবলম্বনে নিষেধাজ্ঞা ও কউমি মাদ্রাসায় কোমল মতি ছাত্রদের বলাৎকারসহ নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পুর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন।

সমাবেশে নগর ইসলামিক ফ্রন্ট সাধারন সম্পাদক এম মহিউল আলম চৌধুরী বলেছেন-কোমলমতি শিশুদের প্রহার-নির্যাতন কস্মিনকালেও শরিয়তসম্মত কিংবা আইনসিদ্ধ নয়। শিক্ষা বা শাসনের নামে এহেন অবাঞ্ছিত কর্মকাণ্ডের সাথে ইসলামের দুরতম সম্পর্ক নেই। যারা মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের বেধড়ক প্রহার করে তারা নিসঃন্দেহে কূপমণ্ডুক। ইসলামী জ্ঞান সম্পর্কে তাদের নুনতম ধারনাও নেই। এসব ইসলাম নামধারীরা মাদ্রাসায় শিশু প্রহার-নির্যাতন এর মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষাকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি কওমী ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 8 বছরের একটি শিশুকে বেধড়ক প্রহার এর মাধ্যমে হত্যা করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-এ কূলাঙ্গার কওমী আলেম কর্তৃক একজন অবোধ শিশুর নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে।

কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা কোনক্রমেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। যেকারণে এসব কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অহরহ ঘটছে, শিশুনির্যাতন, শিশু বলাৎকার এর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।এছাড়াও এসব কওমী প্রতিষ্ঠানসমূহ জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। গণমাধ্যমের এক তথ্যানুযায়ী দেখা যায়- গত ৩ বছরে কাওমী মাদরাসায় ৮৩৪ টি বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে এবং বিগত ২০২০ সালে ঘটেছে ৩২৭ টি। যা একটি সভ্য দেশে কখনও মেনে নেয়া যায় না। অতএব এহেন ঘৃন্য কর্মকাণ্ডের অপনোদনে কওমী মাদ্রাসাসমূহকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনাসহ শিশু হত্যাকারী কথিত মাৌলভীএাু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর এর যৌথ উদ্যোগে ভারতে পবিত্র কোরআনের আয়াত পরিবর্তনে রিট ও শ্রীলংকায় নারী পর্দা নিষিদ্ধ এবং কওমী মাদ্রাসা সমূহে শিক্ষার্থী নিপিড়ন,শারিরীক নির্যাতন ও বালাৎকারের প্রতিবাদে চট্যগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ সম্মুখস্থ চত্বরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন-মাওলানা আব্দুর রহিম তৈয়বী, এম, আলম রাজু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, মাওলানা এম, মাইনুদ্দীন চৌধুরী হালিম, ডাক্তার মাওলানা হাশমত আলী তাহেরী, শাহ্জাদা মাইনুদ্দীন হাসান সন্জরী, রফিকুল ইসলাম,ডাক্তার মুহাম্মদ শাহজাহান, মুহামম্দ আলাউদ্দিন আজাদ, মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, রাজিবুল ইসলাম,আব্দুল করিম,মুহাম্মদ হোসাইন, ছাত্র নেতা আবু সাদেক সিটু, কাউসারুল ইসলাম সোহেল, ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, আবুল হাসেম রাশেদ প্রমুখ।

(Visited 16 times, 1 visits today)