শিরোনাম :
চন্দনাইশকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো আনোয়ারা Worldwide virtual Webinar-2 on “Hybrid Learning with Kahoot! ” Organized by “Global Educators’ Community” & Hosted by Nazmul Haque, Bangladesh ইউপি মেম্বার পদে পারভেজ উদ্দিন রাসেল নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার দিন: মোহাম্মদ হাসান চট্টগ্রামে “বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২১’এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহঃ)’র পবিত্র ওরশ মোবারক আজ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন : ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ফল উৎসব’ কর্ণফুলীর মইজ্জারটেকে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৫ আহত ২০ চান্দগাঁও পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে-এ মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন পরিষদের কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন

অনলাইন শিক্ষা আসলে কি?

মির্জা মহসিন: এটি একটি ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি যা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হয় আধুনিক প্রযুক্তি তথা কম্পিউটার বা মোবাইল কিংবা এ জাতীয় কোন ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তা হতে পারে নেট ডাটার মাধ্যমে বা ওয়াই-ফাই বা ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে সংযোগকৃত।

এখানে অনুমতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থী একই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই ক্লাশে অংশগ্রহন করতে পারে। শিক্ষক সরাসরি ক্লাশ নেন আর শিক্ষার্থীর কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রীনই হবে তার ক্লাশ। শিক্ষার্থী বাস্তব ক্লাশের মতো এখানেও শিক্ষককে প্রশ্ন করে তাৎক্ষনিক সমাধান পেতে পারে। এ যেন ফেইচ টু ফেইচ ক্লাসের মতই। এমনকি, এ ক্লাশসমূহ সেভ করা যায় বলে নোট করার প্রয়োজন হয় না এবং কেউ লাইভে উপস্থিত হতে না পারলেও পরে তা দেখতে পাবে। এছাড়াও ইমেজ, ভিডিও আপলোড, গ্রাফিক্স কিংবা এনিমেশনের মতো জীবন্ত উপস্থাপনা পাঠদান প্রক্রিয়াকে আরোও প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলে।

পৃথিবীর সকল দেশই এখন এ পদ্ধতির উপর ভর করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম দিকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখন অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কারন, কোন বাঁধাই যেন আমাদের শিক্ষা ধারাকে ব্যাহত করতে পারবেনা।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক যেখানে ঘরবন্দি, শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ তালাবদ্ধ এবং কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ একেবারে অসম্ভব, সেক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থাই এখন অন্যতম উপায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছেলে মেয়েরা ঘরে বসে অনায়াসেই সামনা-সামনি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে পারে।

অনলাইনে শিক্ষা ধারার সবচেয়ে বড় উপকার হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাদের পাঠদান ও গ্রহন ব্যবহৃত ডিভাইস এ সেভ করে রাখতে পারেন, যা পরবর্তীতে পুনরায় ডাউনলোড করে পাঠ অনুস্মরণ করতে পারে।

আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন লালন করি তার পূর্ণ বাস্তবায়নের পথ আরো সহজ করে দিয়েছে বর্তমানের এ মহাসংকট। যেহেতু এখন আর স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং বাসাতেই পড়তে হবে, তাই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাই এখন গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। এ জন্য প্রয়োজন আবশ্যকীয় কিছু শিক্ষাদানের মাধ্যম যা ব্যবহার করে পড়াশোনার ধারা অব্যাহত রাখা যায়।

নিম্নে এ ধরনের কিছু অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা পোর্টাল বা সাইটের নাম উল্লেখ করা হলো যা ছাত্র ছাত্রীদের ঘরে বসে লেখা পড়া চালিয়ে যেতে বেশ সহায়ক হবেঃ
জাগো অনলাইন স্কুলে/www.jaago.com.bd, টেন মিনিট স্কুল/www.10minuteschool.com, শিক্ষক ডটকম/ (www.shikkhok.com),
এডুটিউববিডি ডটকম/www.edutubebd.com, সৃজনশীল ডটকম/www.srijonshil.com, ই-ইশ্কুল/ http://eshkul.com/। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে নির্মিত কয়েকটি ওয়েব সাইট রয়েছে যা থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠগ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন; শিক্ষা বাতায়ন/www.teachers.govt.bd, ই-বুক/wwe.ebook.govt.bd এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটসমূহ।

জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনার সংস্পর্শে রাখতে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা হলো একমাত্র মাধ্যম। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন গবেষনা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন নামে নানাবিধ অ্যাপ্লিকেশনস আবিষ্কার করেছেন যা অনলাইন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম্নে এ ধরনের কিছু মাধ্যম সম্পর্কে অবহিত করা হলোঃ

১। জুম (ZOOM )
অনলাইন লাইভ ক্লাশ পরিচালনায় বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেবা হচ্ছে জুম। মিটিং বা শ্রেণি ভেদে ১০০ হতে ১০০০ জন পর্যন্ত ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির একটি ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারে। অংশগ্রহনকারীরা পরস্পরকে দেখতে ও শিক্ষককে প্রশ্ন করতে পারবে। এখানে ব্যক্তিগত মিটিং এবং গ্রুপ মিটিং এর সুবিধা আছে। এ ছাড়া ক্লাস চলাকালীন সময়ে কেউ কিছু লিখে বোঝাতে চাইলে প্রতিটি স্ক্রিনে একটি হোয়াইট বোর্ড ভেসে উঠে, যেখানে প্রাসংগিক যে কোন প্রশ্ন করা যেতে পারে।

২। গুগল ক্লাসরুম (Google Classroom)
এটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় বহুল প্রসিদ্ধ একটি পাঠদান মাধ্যম। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক শিক্ষকই এখন গুগল ক্লাসরুম (classroom.google.com/) ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন। বিনা মূল্যে কোনো শিক্ষক চাইলে গুগল স্যুটে নিবন্ধন করতে পারেন। তারপর নির্ধারিত কোড দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন ওই ক্লাসে। একটি কোর্সে অসংখ্য ক্লাসের পাশাপাশি ২০ জন শিক্ষক তাঁদের ক্লাস যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য গুগল ফরম, গুগল ডক, গুগল ড্রাইভ ও ইউটিউব ভিডিও যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। ক্লাসরুমে থেকে যাওয়া ক্লাসের ভিডিওগুলো পরেও দেখা যাবে। শুধু কম্পিউটার নয়, যেকোনো ডিভাইস থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন অনলাইন ক্লাসে। কোন শিক্ষার্থী ক্লাস মিস করলে পরে তার সুবিধামত সময়ে পাঠ গ্রহন করতে পারে।

৩। কোর্সেরা (Coursera)
এটি একটি উন্নতমানের প্লাটফর্ম যা ব্যবহার করে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী-শিক্ষক এক হওয়ার সুযোগ পান। কোর্সেরা (www.coursera.org) প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিস্বের নামী দামী শিখক ও প্রফেসরদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

৪। ইউটিউব লাইভ (You Tube Live)
এটি একটি সরাসরি কোন শিক্ষা পদ্ধতি না হলেও শিক্ষক তার বক্তব্য রেকর্ড করে আপলোড কর‍লে শিক্ষার্থী তার পছন্দমত সময়ে দেখে নিতে পারে। পারেন। এটি ভিডিও শেয়ারিংভিত্তিক সবচেয়ে বড় সাইট। কেউ চাইলে তাঁর নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। এটিতে একটি প্রাইভেট অপশন আছে যা দিয়ে শুধু নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের দেখানো যায়। আবার একবারে সব ভিডিও আপলোড করে কোর্সের নির্ধারিত সময়ে ভিডিও প্রিমিয়ার করা যায়। এটি অনলাইন ভিত্তিক চমৎকার একটি শিক্ষাদানের মাধ্য।

৫। ফেসবুক লাইভ ক্লাস (Facebook Live class)
এটি খুবই সহজভাবে ব্যবহার উপযোগী একটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা প্রয়োগ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্লাসরুম বানাতে পারে। কোর্সভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রুপে লাইভ ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, নোটস বিনিময়ের সুবিধা তো থাকছেই। লাইভ ক্লাস চলাকালে কমেন্টে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবেন তাঁদের সমস্যার কথা। ঠিক ওই সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারলেও পরে গ্রুপে ভিডিও হিসেবে থেকে যাবে এই লাইভ ক্লাসগুলো। তাই কোনো শিক্ষার্থী লাইভ ক্লাস মিস করে গেলেও পরে আবার গ্রুপের ওয়াল থেকে জেনে নিতে পারবেন। এ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠ গ্রহন করে তা আয়ত্ব করতে পারে। এমনকি হোমওয়ার্ক, ক্লাসওয়ার্ক বা যে কোন প্রজেক্ট জমা দিয়ে শিক্ষার্থী তার ফিডব্যাক নিতে পারে।

৬। টিম ভিউয়ার ( Team Viewer)
এটি অনলাইন ভিত্তিকক্লাশ পরিচালনার জন্য ছোট পরিসরের একুটি মাধ্যম। এটি ব্যবহার করতে শিক্ষককে নির্ধারিত পাসকোড দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদেরকে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং সুবিধামত পদ্ধতিতে ক্লাস নিতে পারেন।

৭। গুগল অ্যাপ্লিকেশনস (google applications)
গুগল ক্লাসরুম ছাড়াও গুগলের রয়েছে আরো বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনস যা ব্যবহার করে খুব সহজেই সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এদের মধ্যে প্রসিদ্ধগুলি হলো, G-suit, G-meet, Hangout, Duo ইত্যাদি।

৮। কে টু এডুকেশন (k-2 education)
এটি অ্যাপেলের একটি অ্যাপ্লিকেশন যা ব্যবহার করে ফলপ্রসু পাঠদান করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন।

৯। ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস ( Flashback Express) তৈরিকৃত কন্টেন্ট স্ক্রীনে উপস্থাপনার পাশাপাশি এ বিষয়ে শিক্ষকের লেকচারও সরাসরি দেখা যাবে ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস নামক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাশে।

১০। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্স (Social Media Apps) বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম যা ব্যবহার করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরামদায়কভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে পারেন। এ মাধ্যমগুলোর মাঝে প্রধান হলো, Messenger, imo, Linkedin, Instagram, Skype, Whats Apps প্রভৃতি।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেলো যে, করোনা আঘাত বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ যা থেকে নিজেদেরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার একটি মহান শিক্ষা তারা গ্রহন করতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ যে কোন বাধাই নয়, বরং তা আমাদেরকে শিক্ষা ধারায় একটি নব দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা ধারাকে অব্যাহত রাখতে যে অত্যাধুনিক শিক্ষার মাধ্যম ও উপকরণ আবিস্কৃত হয়েছে তার সঠিক ও সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ছেলেমেয়েরা একবিংশ শতাব্দীর যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্টভাবে সফল হতে পারবে। লেখক: মির্জা মোহাম্মদ মহসিন, প্রভাষক(অর্থনীতি), চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল এম.এ মাদরাসা।

(Visited 28 times, 1 visits today)