শিরোনাম :
চন্দনাইশকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো আনোয়ারা Worldwide virtual Webinar-2 on “Hybrid Learning with Kahoot! ” Organized by “Global Educators’ Community” & Hosted by Nazmul Haque, Bangladesh ইউপি মেম্বার পদে পারভেজ উদ্দিন রাসেল নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার দিন: মোহাম্মদ হাসান চট্টগ্রামে “বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২১’এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহঃ)’র পবিত্র ওরশ মোবারক আজ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন : ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ফল উৎসব’ কর্ণফুলীর মইজ্জারটেকে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৫ আহত ২০ চান্দগাঁও পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে-এ মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন পরিষদের কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন

মনে পড়ে বাংলাদেশ?২০০১থেকে ২০০৬ সাল : মোহাম্মদ হাসান

কথা বলার জোঁ নেই, কানে শোনার উপায় নেই বন্দুকের নল কন্ঠে ঠেকে আছে।কথা বললে জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবে,অন্যায় হচ্ছে হবে প্রতিবাদ করা যাবে না, রাজনীতি মিছিল মিটিং কিছুই করা যাবেনা,জয় বাংলা বলা যাবে না হাতের আঙ্গুল হারানোর আশংকায়, কবরস্থান দখল হয়েগেছে এমন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হয়েছিলো ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল।

আজ ১০ অক্টোবর। ২০০১ সালের এই দিনে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। ক্ষমতাগ্রহণের দিনেই ১২১ জনকে হত্যা করে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে এরা তাণ্ডব চালিয়ে ৪৮টি স্থানে অগ্নিসংযোগ করে। সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংবাদ পত্রের সংগ্রহীত তথ্য থেকে দেখা যায়, বিএনপি জামাতের ওই একদিনের তাণ্ডবে গৃহহীন হয়ে পড়ে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের সেই বিভীষিকাময় শাসনামলের কথা চিন্তা করলে সত্যিই শরীর শিউরে ওঠে! বিএনপি-জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই ‘সোনার বাংলা’ ধ্বংসের মিশনে নেমেছিল। ক্ষমতা হারানোর পরও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধই আছে বিএনপি। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ড হওয়ায় দেশের ভেতর জামায়াত-শিবির যে তাণ্ডব চালায়, সেই নারকীয় তা-বের সঙ্গে কেবল একাত্তরের দুঃসময়েরই তুলনা করা চলে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পাওয়া যায়নি। বরং জামায়াতের রাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার অবস্থান অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

বিএনপি-জামায়াতের সে অপশাসন ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানি স্টাইলে সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইউনুস, আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাহ এ এম এস কিবরিয়া, চট্টগ্রামের গোপাল কৃষ্ণ মুহুরিকে নির্মমভাবে হত্যা এবং প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা ঘটনা কি ভুলে যাওয়া যায়? বানিয়ার চর গির্জায় হামলা, যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠান, ময়মনসিংহের সিনেমা হল, সিপিবির জনসভা, পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলের অনুষ্ঠানসহ ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বোমা-গ্রেনেড হামলা করে আমাদের প্রিয় স্বদেশকে এক অন্ধকার মৃত্যু-উপত্যকা বানানোর স্মৃতি কী এত সহজেই ভোলা যায়?

২০০১-এ ক্ষমতায় এসেই বিএনপি-জামায়াত তিন মাসে পাঁচশর কাছাকাছি মন্দির ধ্বংস করে। শ’য়ে শ’য়ে নারীকে ধর্ষণ করে, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদের মতো জঙ্গি দলের উত্থান ঘটায়, একযোগে বোমা হামলা চালায় ৬৩টি জেলায়। বাংলার মানুষ ইচ্ছে করলেও সেই ভয়াবহ দুঃসময়ের স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। ভুলে যেতে পারবে না হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবনের লুটেরা তথা তারেক-কোকো-মামুনের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা। এ দেশের মানুষ বিএনপির শাসনামলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পৃষ্ঠপোষক এসপি মাসুদ মিয়া ও বাংলা ভাইয়ের তাণ্ডব বিস্মৃত হয়নি। ভুলে যায়নি এসপি কোহিনূরের আইনবহির্ভূত আচরণের কথা- যে কিনা রাজপথে জাতীয় নেতাদের পিটিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত সরকারের মদদে ‘সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের’ নিপীড়িত হবার ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর নির্যাতনের উল্লেখযোগ্য কিছু চিত্র। তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলো সে সময়ের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ।

এপ্রিল ২০০২- এ সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের উপরে বিএনপি-জামায়াতের নিপীড়ন চিত্র-

১ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক সংবাদ: চট্টগ্রামে ছাত্রদল ক্যাডারদের হাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন।

১ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক সংবাদ: ডোমারে কালীমন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর

১ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক ভোরের কাগজ: শাহজাদপুর কালীমন্দিরে বোমা হামলা।

৩ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক সংবাদ: ঘাটাইলে প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে।

৬ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক প্রথম আলো: ঘাটাইলে প্রাচীন কৃষ্ণমূর্তি ভাঙচুর: এলাকার বর্মণ সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা।

১২ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক ভোরের কাগজ: ৩টি পরিবারের ২৬ জন দেশছাড়া হয়েছে: যশোরের একটি সংখ্যালঘু গ্রামে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত নির্যাতন, মীরসরাইয়ে হিন্দু পাড়ায় হামলা, আহত ৩ জন

১৩ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক ভোরের কাগজ: গৌরনদীতে বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডারদের তাণ্ডব: সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় আহত ৮, অনেকে বাড়িছাড়া।

১৪ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক আজকের কাগজ: সাতক্ষীরায় পূজামণ্ডপে জামায়াতের হামলা, ৩০ নারী-পুরুষ প্রহৃত।

১৬ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক প্রথম আলো: আখাউড়ায় মূর্তি ভাঙচুর।

১৬ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক জনকণ্ঠ: ছাগলনাইয়ায় ৪ জনকে মারধর বাগেরহাটে দুই বাড়ি লুট: মঠবাড়িয়ায় ছাত্রদল ক্যাডারদের নির্যাতনে সংখ্যালঘু গৃহবধূসহ তিনজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

১৭ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক সংবাদ: গৌরনদীর কাপালিক পাড়ায় বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলা।

১৮ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক মানবজমিন: জামায়াত এমপি ও ক্যাডার বাহিনীর হাতে ইউএনও লাঞ্ছিত।

১৯ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক প্রথম আলো: জমি দখলে বাধার জের, পাথরঘাটায় বিএনপি ক্যাডাররা সংখ্যালঘু গৃহবধূকে বেদম পিটিয়েছে।

২০ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক সংবাদ: রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘু পাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা, আহত ২৫।

২১ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক খবর: আখাউড়ায় মূর্তি ভাঙচুর।

২২ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক জনকণ্ঠ: সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘু গৃহবধূকে সন্তানের সামনে ধর্ষণ করেছে জামায়াতকর্মী।

২৫ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক যুগান্তর: নবীগঞ্জে প্রাচীন মন্দির ভেঙে জমিদার বাড়ি বেদখল।

২৮ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক আজকের কাগজ: হাইমচরে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর।

৩০ এপ্রিল ২০০২, দৈনিক ভোরের কাগজ: ধামরাইয়ে কালীমন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, প্রাচীন বটগাছ কর্তন।

৩০ এপ্রিল ২০০২, প্রথম আলো: বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার জন্য সাকা ক্যাডারদের দায়ী করেছে আন্দোলন কমিটি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল অবধি, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, হত্যাচেষ্টা,

(Visited 54 times, 1 visits today)