শিরোনাম :
চন্দনাইশকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো আনোয়ারা Worldwide virtual Webinar-2 on “Hybrid Learning with Kahoot! ” Organized by “Global Educators’ Community” & Hosted by Nazmul Haque, Bangladesh ইউপি মেম্বার পদে পারভেজ উদ্দিন রাসেল নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার দিন: মোহাম্মদ হাসান চট্টগ্রামে “বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২১’এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহঃ)’র পবিত্র ওরশ মোবারক আজ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন : ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ফল উৎসব’ কর্ণফুলীর মইজ্জারটেকে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৫ আহত ২০ চান্দগাঁও পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে-এ মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন পরিষদের কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন

ফারুকী হত্যা ও আলাউদ্দিন জেহাদি গ্রেফতার || বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত

মির্জা মহসিন: চলুন একটু বিশ্লেষণ করে দেখি! আলাউদ্দিন জেহাদী গ্রেফতার হয়েছে স্রেফ একজন মৌলভীকে মৃত্যুর পর কটুক্তির অভিযোগে। তাও প্রকাশ্যে স্ট্যাটাস ও লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করার পরেও। শুধু গ্রেফতার নয় নিয়েছে রিমান্ডে।
এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন মৌলভী শফি সাহেব কি আমাদের নবীজি (দঃ) থেকে মর্যাদাবান? সম্মানিত? নাকি সমতুল্য?

যদি না হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বরিশালের গৌরনদী থানার তাপস মন্ডল, ৯ এপ্রিল ২০ সাতক্ষীরার স্কুলশিক্ষক ইন্দ্রজিত হাজারী, ২৯ জুন ২০ নাটোরের লালপুরের রতন দাস, ১০ আগস্ট ২০ খুলনার জুবায়ের, ৭ জানুয়ারি ২০ শরিয়ত বয়াতী, ০৩ মে মানিকগঞ্জের রনি মুনিঋষি, ১৫ মে ২০ ভোলার শ্রীরাম চন্দ্র দাস, ১০ জুলাই কুষ্টিয়ার ভেরামারার নারায়ণ কর্মকার, ১০ এপ্রিল মিঠাপুকুরের রায়আন হুদা যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মহানবী (দঃ)কে নিয়ে নিকৃষ্ট ভাষায় যে কটুক্তি করেছে ওয়াহাবী তথা হেফাজতীরা কী সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নাকি রিমান্ডের আবেদন করেছে? করে নাই।আজকে শফি সাহেবের মর্যাদা, মানহানি তাদের কাছে নবীজি (দঃ)’র মানহানির চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

আসুন আরেকটু গভীরে যাই, ওয়াহাবী কর্তৃক সুন্নী আলেমগণ গুম, খুন, হত্যা, ধর-পাকড় ও হয়রানির ইতিহাস আজকের নয় সেই ১৯৩০ সালে সৌদিতে ওয়াহাবী বিপ্লবের মধ্যে সুন্নী নিধন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা সদা তৎপর, ১৯৩০ সালে সৌদিতে মূল ধর্মকে বাদ দিয়ে ধর্ম সংস্কারের নাম আব্দুল ওয়াহাব নজদী ওয়াহাবীজম বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় ছিল সুন্নীরা। সেই জন্যে বিপ্লবের নামে সেই দিন লক্ষ লক্ষ সুন্নী স্কলারদের একসাথ করে ব্রাশফায়ার করে মেরে ফেলছে। এরপর ১৯৮৭ সালের ২১জুলাই ইরানসহ অন্য অনেক দেশের ৪০০ থেকে ৬০০ জন সুন্নী হজযাত্রী সুরা তওবার প্রথম কয়েকটি আয়াতের আলোকে পবিত্র হজ্বের একটি ফরজ বা অবশ্য-পালনীয় অনুষ্ঠান হিসেবে কাফির-মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা উচ্চারণের দায়ে সৌদি-ওয়াহাবি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন।
তৎকালীন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নায়েফ ইবনে আবদুল আজিজের নির্দেশে এই গণহত্যা চালানো হয়েছিল।

সৌদি-ওয়াহাবি সেনারা অতীতেও কাবা ঘরের ভেতরে বহু মুসলমানকে হত্যা করেছিল। এমনকি আহলে সুন্নাত আল জামাতের প্রখ্যাত অনেক আলেমসহ বহু সুন্নি মুসলমানদের হত্যা করতেও দ্বিধা বোধ করেনি সৌদি-ওয়াহাবিরা। (বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছ শামির ‘কিতাবুল বোগাত’ বইয়ে)

গেল বছরে সৌদির বর্তমান সালমান কর্তৃক ও তিনজন সুন্নী স্কলার – শায়েখ সালমান আল-আওদাহ, লেখক আওয়াদ আল-কারনি এবং প্রচারক আলী আল-ওমারি। এদের মধ্যে শায়েখ সালমান আল-আওদাহ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তিনি শরিয়া এবং সমান নীতির বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত একজন পণ্ডিত।

সালমান হচ্ছে ওয়াহাবীদের financial patronizer. কারণ ২০১৮ সালের ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে সফরে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সৌদি প্রিন্স ডিনাইস কুশনার ইজ ইন হিজ পকেট শীর্ষক ৭৫ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ বিন সালমান বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর অনুরোধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবেলায় সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোতে ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারে অর্থায়ন করে। এইজন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওয়াহাবীদের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দেশগুলোতে বেশি সৌদি আরবের ২২.৯%, কাতারের ৪৬.৮৭%, আমিরাতের ৪৪.৮%, বাহরাইনের ৫.৭%, কুয়েতের ২.১৭% জনগণ ওয়াহাবী পন্থী। সৌদি আরবের ওয়াহাবী পন্থী লোকের বেশীর ভাগ নজদ অঞ্চলে বাস করে।

এইজন্য মিশরের আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম শেইখ আহমদ আত তাইয়্যেব বলেছেন, “সালাফি তথা ওয়াহাবিরা সুন্নি নয়।” সম্প্রতি চেচনিয়ার রাজধানী গ্রজনিতে এক ধর্মীয় সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সৌদি আরবের সরকারপন্থী আলেমরা। তারা বলেছেন, মিশরের গ্র্যান্ড ইমামের এই বক্তব্য সৌদি আরবে ওয়াহাবি মতবাদের চর্চাকে দুর্বল করবে এবং মিশরের আল-আজহার-কেন্দ্রিক সুন্নি নেতৃত্বের একটি নতুন ও অপেক্ষাকৃত বেশি জোরালো ধারা গড়ে উঠবে।

আরবি দৈনিক রাই আল ইওয়ামের ওয়েব সাইটে পরিবেশিত গ্রজনির ওই সম্মেলনে মিশর ও অন্যান্য সুন্নি-প্রধান দেশের ২০০ আলেম এবং চিন্তাবিদ অংশ নেন। ১৭ থেকে ২৫ আগস্টে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে রাশিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক, ভারত, ব্রিটেন, লেবানন, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জর্দানসহ আরও অনেক দেশের আলেমরা অংশ নেন। তারা সুন্নি মতবাদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের তাকফিরিবাদ তথা ওয়াহাবিবাদ এবং এই মতবাদে বিশ্বাসী ‘দায়েশ’ বা আইএসআইএলসহ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত মুফতি ও অধ্যাপক আহমাদ কারিমাও সম্প্রতি বলেছেন, সালাফিদের ধর্ম বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)’র ধর্ম নয়, বরং তাদের ধর্ম হল মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহাবের ধর্ম। অতীতেও মিশর, তুরস্ক, ভারত ও সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রখ্যাত সুন্নি মুফতি এবং আলেমরা ওয়াহাবি-সালাফিদেরকে সুন্নি নয় বলে ঘোষণা করেছেন। তাদের অনেকেই কট্টর তাকফিরিবাদে বিশ্বাসী ওয়াহাবিদেরকে ইসলামের শত্রুদের দালাল, ধর্মচ্যুত ও মুনাফিক বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে মির নিসার আলী, তিতুমীর ও সৈয়দ আহমদ বেরলভীর ওয়াহাবী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল উপমহাদেশর মুসলিমদের বৃটিশ শাসন মুক্ত করা কিন্তু আজ যারা উপমহাদেশে সৌদি ওয়াহাবী মতবাদ চর্চা করেন তাদের মূল লক্ষ্য হলো সুন্নী নিধন করা। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের আলাউদ্দিন জেহাদী ঠুনকো ইস্যূতে হাজতে, ফারুকীকে নিতে হলো চির বিদায়।
লেখক: প্রভাষক অর্থনীতি। চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসা।

(Visited 32 times, 1 visits today)