শিরোনাম :
চন্দনাইশকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো আনোয়ারা Worldwide virtual Webinar-2 on “Hybrid Learning with Kahoot! ” Organized by “Global Educators’ Community” & Hosted by Nazmul Haque, Bangladesh ইউপি মেম্বার পদে পারভেজ উদ্দিন রাসেল নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার দিন: মোহাম্মদ হাসান চট্টগ্রামে “বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২১’এর সেমিনার অনুষ্ঠিত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহঃ)’র পবিত্র ওরশ মোবারক আজ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিখিয়েছে নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন : ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ফল উৎসব’ কর্ণফুলীর মইজ্জারটেকে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৫ আহত ২০ চান্দগাঁও পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে-এ মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন পরিষদের কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন

আলী তানভীর : মানবতার আরেক ফেরিওয়ালা

বিশেষ প্রতিবেদন(মোহাম্মদ নূরুদ্দীন শহীদ): নাম তার আলী তানভীর, পড়েন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগে। বিশ্ব মহামারীর কঠিন এই সময়ে সে বাবা মা’র সাথে নিজ গ্রামেই থাকেন। আর্তমানবতার সেবায় যারা জীবনের অর্থ খুঁজে পান,পরের দুঃখে কেদে যারা অন্তরকে জাগান তাদের মধ্যেই একজন এই আলী তানভীর। বয়স কুড়ির কৌটা পেরিয়েছে সবেমাত্র।

তারুণ্যের অপরিসীম সম্ভাবনা আর হৃদয়ভরা মানুষের প্রতি ভালবাসা, প্রেম, আর অকৃত্রিম সহানুভূতি নিয়ে ফেরি করে চলেছেন মানবতা। বুঝিয়ে দিচ্ছেন জীবনের অর্থ। মানুষের ভালবাসায় সিক্ত করছেন নিজেকে।

“মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্যকরে এই পুস্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই। ”

সেই জীবন্ত হৃদয়ের মাঝেই স্থান করে নিচ্ছেন মানবতার এই ফেরিওয়ালা। ক্রমবর্ধমান উন্নয়নশীল দানবীয় সভ্যতার এই ক্রান্তিকালে, দরিদ্রের হৃদয়ের হাহাকার, ক্ষুধিতের আর্তনাদ, সুবিধাবঞ্চিতদের বুক ভরা কান্নায় যখন ভারি হচ্ছে বায়ু। সবলের বল নিত্যদিন যেখানে বর্ধিত হয়েই চলছে, মানবপ্রেম, সৃষ্টির প্রতি অগাধ ভালবাসা যে সময়ে আবর্জনার স্তূপে ধুৃঁকে ধুঁকে মরছে আর বিকট চিৎকার করে উঠছে, কালের বিবর্তনে ঘোর অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে মনুষ্যত্ব, মানবের ভেতরে জায়গা করে নিচ্ছে দানবসত্ব; সেই ক্রান্তিকালেই ঠিক তার উল্টো পথেই হেঁটে চলেছেন স্বাধীন সোনারবাংলার চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের অদম্য এক তরুণ আলী তানভীর।

পর্বতসম দৃঢ় মনোবল সঞ্চয় করে, বুক ভরা মানবপ্রেম ধারণ করে মানবতার ফেরি করে ফিরছেন বিরতিহীনভাবে। পায়ে হেঁটে, কাঁদামাখা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ,বাঁশের সাঁকো ডিঙিয়ে, কাঁদে বোঝা নিয়ে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ধারে ধারে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন মানবতা।
কখনো সেলাইমেশিন কাঁধে করে, কখনো বা হুইলচেয়ার মাথায় নিয়ে, কখনো বা খাবারের পুটলি বোঝাই করে হাজির হচ্ছেন দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধীদের দুয়ারে দুয়ারে।

বিনিময়ে পাচ্ছেন তাদের হৃদয়, সিক্ত হচ্ছেন মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসায়, ‘গাহি সাম্যের গান-যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান। ‘
সব বাধা-ব্যবধান ভুলে গিয়ে দরিদ্র বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী শিশু আর সুবিধাবঞ্চিতদের মুখের হৃদয় নিঙড়ানো প্রশান্তির সেই হাসির মধ্যেই নিজেকে আবিস্কার করছেন এই ফেরিওয়ালা৷ পিয়ে নিচ্ছেন এক অমৃতসুধা।

এ অমৃতসুধা কজনিই বা পান করতে পেরেছেন। সৃষ্টির প্রতি, মানুষের প্রতি এই অবিনশ্বর প্রেম কজনই বা এত আপন করে ধারণ করতে পেরেছেন। সৃষ্টির গীত গাওয়ার এর চাইতে উত্তম কাজ আর কিইবা হতে পারে।

যে অপরের মধ্যে নিজেকে খোঁজে পেয়েছে, মানবপ্রেমের মধ্যদিয়ে নিজেকে জেনেছে, আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উজাড় করে বিলিয়ে দিতে পেরেছে সেইতো নিজেকে পেয়েছে, নিজেকে জেনেছে, জীবনের অর্থ খোঁজে পেয়েছে৷
সেই তো পান করতে পেরেছে এই অমৃত।

“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, মানুষ ছাড়া ক্ষেপা রে তুই মূল হারাবি। ”

মানবতার এই ফেরিওয়ালা তাই মানুষকেই বুঝেছেন তাই সোনার মানুষই হয়েছেন। প্রতিবন্ধী শিশু, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, দরিদ্র বৃদ্ধ, অবহেলিত নারী, বিধবা নারীদের নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সে।

তবে তার প্রধানকেন্দ্রই হচ্ছে প্রতিবন্ধী সমাজ।
ইতিমধ্যে টানা গত দুই মাসেই সে ৬৭ টি প্রতিবন্ধী পরিবারের কাছে গিয়েছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন, তাদের অভাবের দুঃখ উপলব্ধি করেছেন, তাদের অসহায়ত্বের মর্মপীড়া নিজ হৃদয়ে রুপান্তর করেছেন।

মানবপ্রেমের নিজেকে বিলিয়ে দেবার নেশায় কাজে নেমে পড়েন। তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় সে ২১ টি হুইলচেয়ার বিতরণ করেছেন এবং সেলাইমেশিন, জামা-কাপড়, খাবার এবং প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র নিয়ে দীর্ঘ কাঁদামাখা পথ পায়ে হেঁটে দরিদ্রের দুয়ারে হাজির হচ্ছেন। তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন মানবতা, মানবপ্রেম৷ এছাড়াও ৫ টি প্রতিবন্ধি শিশুর চিকিৎসাসহ সম্পূর্ণ দায়িত্ব সে নিজের কাঁধে নিয়েছে। তাদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেছে এবং আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনও পূরণ করে চলছেন।

মানবতার এই ফেরিওয়ালা কোন ধনীর দুলাল নয়, কোটি টাকার সম্পদ তার নেই, কাড়িকাড়ি টাকাও জমা নেই কোন দেশীয় ব্যাংকে, কিংবা সুইস ব্যাংকেও তার কোন একাউন্ট নেই, দেশ বা বিশ্বের সেরা ধনী কিংবা সেরা প্রভাবশালীর তালিকায় তার কোন নাম নেই কিন্তু, সে ধনী। তার আত্মা আছে একটা মহৎ হৃদয় আছে, যে হৃদয় অবিরাম জয় করে চলছে মানবতা, গেয়ে চলছে নিরন্ন, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদ মানুষের জয়গাঁথা, যে হৃদয় ধারণ করেছে বিশাল প্রেম, অনন্ত প্রেম। এই হৃদয়েই এসে লুটিয়ে পড়ে বিশ্বের সব ধনী, এখানেই এসেই লুটিয়ে পড়ে সকল প্রাণ

“সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ! তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার, তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকলের দেবতার।”

যুগে যুগে যত আসল মহাপ্রাণ, তারা সকলেই গেয়ে গেছে এই প্রাণ, এই হৃদয়েরই গান। আমি মুঠোফোনে আলী তানভীরের সাক্ষাতকার গ্রহণ করি এবং তাকে তার এই মহৎ কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি এবং সে বলেন -‘ আমি জন্মের পর বাক -প্রতিবন্ধী ছিলাম। অস্ত্রোপচারের পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি। আমি দেখি অনেক গরীব প্রতিবন্ধী পরিবার আছে যারা তাদের প্রতিবন্ধী ছেলেটির মৃত্যুর দিন কখন আসবে সেটা গণনা করতেছে। এই পরিবারগুলোকে মনোবল ও স্বপ্ন দেখানোই আমার কাজ, এটাই আমার আত্মতৃপ্তি। যদি আমার সামান্যটুকু সহযোগিতায় আমার মত শত ছেলে জীবন ফিরে পায়। সে আশায়, সে মানুষগুলোর হাসি দেখার স্বপ্ন দেখি।

কাজগুলো করে আপনি কেমন তৃপ্তি অনুভব করেন?  এই প্রশ্নের জবাবে আলী তানভীরের বলেন, ‘আমি মন থেকে কাজ করি। ভাবি, আমার জীবনের বিনিময়ে যদি কিছু প্রতিবন্ধীর সামান্য উপকার হয় এতে আমার শান্তি৷ মৃত্যুর পর আমার আত্মা শান্তি পাবে।

আলী তানভীরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
নাম : আলী তানভীর
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৬-২০১৭ সেশন।
বাড়ি : কৈয়ারবিল ইউনিয়ন, চকরিয়া উপজেলা।
আলী তানভিরের
মোবাইল : 01815181717

প্রতিবেদক: শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

(Visited 104 times, 1 visits today)