শিরোনাম :
বিজিএমই সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী নারায়ণহাট মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত সিলেট সুনামগঞ্জ বানভাসীদের মাঝে ফেনী জেলা ‘নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন’ এর ত্রাণ বিতরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন || প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের অভিনন্দন মানবতার নায়ক আবদুস সামাদ স্যার, সবার জন্য অনুসরনীয় রামগঞ্জে খালের উপর থাকা নির্মাণাধীন দুইটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মাদক কারবারী, বিশেষ অভিযানে ৫মাদক কারবারী লোহাগাড়ার শ্রীঘরে, ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যান্ত্রিক এবং মানবিক ত্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে

স্মৃতির ওপার থেকে ঈদ পর্ব-২ মায়ের স্মৃতি, মহিউদ্দিন ওসমানী

#স্মৃতির_ওপার_থেকে_ঈদ_পর্ব_০২
মায়ের স্মৃতিঃ-
অতীত দিনের ঈদ আর ফিরে আসবে না আমার বা আমাদের জীবনে, ফিরে আসবে না কৈশোর- কিন্তু কৈশোরের স্মৃতি ফিরে আসবে। ঈদ মানে খুশি -নতুন কাপড়ের গন্ধ, মুরব্বিদের সালাম- কদমবুচি আর সেমাই, গরম পোলাওয়ের উপর কোর্মার মজাদার আয়োজন। এই ঘর থেকে ঐ ঘরে মুরব্বিদের সালাম বা কদমবুচি করা সাথে পান্জাবীর পকেটে সেলামি ডুকানো। এখনো সে স্মৃতি চোখ বন্ধ করে ফিরিয়ে আনতে চাই। কিন্তু স্মৃতি কখনো একা আসে না-নিয়ে আসে নানা দৃশ্য, নানা মানুষের মুখ। যে মানুষ গুলো এখন আমাদের ধরা ছোঁয়ায় বাইরে অনেক দুরে। সে মুখ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় এবং মৃত্যুর মুহুর্ত পর্যন্ত না ভুলানো মুখ আমার মায়ের মুখ। আমার মায়ের মুখটা কেমন ছিল ভাবতে আমার মনে আনন্দ শিহরণ জেগে উঠে। শেষ রোজার দিনে শেষে মায়ের কাজ অনেক গুন বেড়ে যেত পুরো রাত ভর বিভিন্ন পদের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত রাত পার করতে আমার মা। তখনকার দিনে এলাকার প্রতি ঘরে ছিল না টিভি তাই আমাদের ঘরে টিভি দেখার জন্য অনেক ছেলেমেয়ে আসতো, তাদেরকে কিছু খাওয়ানোর জন্য মায়ের যে আনন্দ তা চোখ বন্ধ করলেই স্মৃতিতে এসে যায়। ঈদের দিন আমার মা সবাইকে খাইয়ে বিলিয়ে কি যে পরিতুষ্টি উপভোগ করতেন -সবাই আমার মায়ের পায়ে কদমবুচি করার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়াত। মুহুতের মধ্যে এই স্মৃতি চোখের সামনে এসে গেলে কী করব? এখন মাও নাই তেমন পোলাও আর হয় না। আমাদের জীবনে আর সেই ঈদও আসবে না। স্মৃতি নিয়ে আমারও সময় চলে যাচ্ছে, যাচ্ছি আস্তে আস্তে মায়ে গন্তব্যে। ওপারে স্মৃতি মধুময় এবং বেদনাদায়ক।
#স্মৃতির_ওপার_থেকে_পর্ব_০১
রোজার পরে আসবে ঈদ। আগেকার দিনে ছোট ছেলেমেয়েরা রোজার ধার ধারতো না। তাদের কাজ বাবা-মার বা দাদা-দাদীর সঙ্গে সেহেরি খাওয়া,ইফতার খাওয়া, আবার সেহেরির পরে রান্নাঘরে যা থাকতো তা দিনে খাওয়া বা কয়েকটা থাকলো সে রোজা গুলো গুনে রাখা সেটাই তাদের রোজার আনন্দ। এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে রোজা রাখার অভ্যাস অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি নিজেও আমার ছেলেমেয়েদের সে ছোট বেলা থেকে লক্ষ্য করে এসেছি তাদের বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তারা একটা রোজাও কোনো দিন বিনা কারণে ভঙ্গ করেনি, তাই আমার মনে হচ্ছে এখন রোজা রাখার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগেকার দিনে ঈদের সময় নতুন জামা পাওয়া যেত এক সেট। এখনকার মতো কয়েক সেট নয়। জামার সাথে অবশ্যই নতুন জুতো। তখনকার দিনে আমরা জামা যত্ন করে বালিশের নিচে রেখে দিতাম, পাট না ভাঙে যাতে। অতীতের কত স্মৃতি আমিসহ আমার সমবয়সী বা আমার বড়দের স্মৃতিপটে।
ওপারের স্মৃতি ওপারেই রয়ে গেল, কোনো কিছুই তো আর ফিরে আসে না। কত ঈদ দেখেছি। অতীতের কত মান-অভিমানের কথা এখনো আমাদের স্মৃতিতে জাগ্রত আছে। বড় ভাই বা মায়ের কাছে একটি শার্ট নিয়ে অভিমান,একটি পাজামা নিয়ে ঝগড়া, টুপি নিয়ে হাতাহাতি!
সবই তো চোখ বুজলেই ফিরে আসে। কিন্তু চোখ মেললে আর থাকে না। স্মৃতি হয়ে যায়। ওপারের স্মৃতি ওপারেই থেকে যায়।
তাই তো বলি।
ঈদ মানে
ঈদ মানে হাসি খুশি
সুন্দর একটি দিন,
ঈদ মানে দুখীদের
বুকে টেনে নিন।

(Visited 45 times, 1 visits today)