শিরোনাম :
মীরসরাইয়ে ট্রাক সহ চোরাই গরু ও ২ চোর আটক জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! রাতের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত নাবিকদের মুক্তি না দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট : শ্রমিক নেতা বাহারুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরে শিয়ালের মাংস বিক্রির দায়ে একজনের কারাদন্ড রামগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মোংলা ঘসিয়াখালী চ্যানেলে জাহাজ দুর্ঘটনায় একজন নিহত ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি শ্রীঘরে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত রাঙ্গুনিয়ায় বেতাগী ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ৩ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১০ ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

শবে বরাত ও প্রসঙ্গ কথা

মুহাম্মাদ আবদুল মান্নান: ১৪ই শা’বান দিবাগত রাত শবে বরাত বা বরাতের রাত্র। কিন্তু অনেকে বলে থাকে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও শবে রাত বলে কোনো শব্দ নেই। সুতরাং শবে বরাত বলতে কিছু নেই। মূলত: শবে বারাআত সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে অনেকে নিজেকে সচেতন তথা বিদআত বিরোধী বলে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।

শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ কুরআনিক শব্দ নয় ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই। তদ্রুপ নামায, রোযা, খোদা, ফেরেশতা, পীর ইত্যাদি শব্দগুলো কুরআনিক শব্দ নয় ও হাদীছ শরীফে নেই।

এখন শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি নামায, রোযা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ
শরীফ এ না থাকার কারনে ছেড়ে দিবে? খোদা, ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এ না থাকার কারনে মহান আল্লাহ পাক ও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অস্বীকার করবে?

“শবে বরাত” শব্দটি ফার্সি। ‘শব’ অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। সুতরাং “শবে বরাত” শব্দের অর্থ দাড়ায় “সৌভাগ্যের রজনি।” যেমনিভাবে নামায, রোযা, খোদা, ফেরেশতা, পীর ইত্যাদি ফার্সী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত।

অপর দিকে লাইলাতুল বারাআত( ليلۃ البراءۃ ) আরবি শব্দ। সূরা আদ-দুখানে উল্লখিত “লাইলাতুল মুবারাকাত” অর্থ মুফাসসিররা ৪ টি অর্থ করেছেন। (যা হাদীসের ভাষায়-
( ليلۃ النصف من شعبان-

যেমন-
১। الليلۃ المباركۃ(পবিত্র রজনি)
২। وليلۃ البراءۃ (সৌভাগ্য রজনী)@
৩।وليلۃالصك( ছাড় পত্রের রজনী)
৪। واليلۃ الرحمۃ,(করুনার রাত)

আল্লামা জমখশরী(রা.) তাফসিরুল কাশশাফ-এ লিখেছেন-
ثم ان ليلۃ النصف من شعبان لهااربعۃ اسماء: الليلۃ المباركۃ,وليلۃ البراءۃ, وليلۃالصك, واليلۃ الرحمۃ, وقيلانما سميت بليلۃ البراءۃ, وليلۃ الصك, لان البندار اذا استوفي الخراج من اهله كتب لهم البراءۃ, كذلك الله عز وجل يكتب لعبادۃ الموءمنين البراءۃ في هذهالليلۃ ( تفسيرالكشاف) –

ইমামুল আউলিয়া শাইখুল মাশায়েখ সৈয়দ পীর মীর মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী( রা.) তার স্বীয় লিখিত কিতাব গুনিয়াতুত তালেবীন – এ উল্লেখ করেন-
“وقيلانما سميت ليلۃ البراءۃ لان فيها براءتين – براءۃللاشقياءمن الرحمن وبراءۃ للاوليلءمن الخذلان-”
অর্থাৎ, এ রাতকে লাইলাতুল বারাআত বলা হয় – কেননা এ রাতে দু’ধরনের বরাআত হাছিল হয়। একটি হল আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হওয়ার বারাআত, অপরটি হলো আল্লাহর প্রিয়জনদের অপমান থেকে মুক্ত……”

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ এ ইরশাদ করেন, ‘শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই র্দেশক্রমে উক্তরাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময়বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই ক্ষমাকারী।” সূরা দু’খান,আয়াত শরীফ ২-৫)

কেউ কেউ বলে থাকে যে,“সূরা দু’খানের উল্লেখিত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে ক্বদর-কে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফ এ সুস্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি……..। আর কুরআন শরীফ যে ক্বদরের রাতে নাযিল করা হয়েছে তা সূরা ক্বদরেও উল্লেখ আছে ।”

এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল মণি রঈসুল মুফাসসিরীন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
তিনি স্বীয় তাফসীরে উল্লেখ করেন,” মহান আল্লাহ পাক তিনি লাইলাতুম মুবারাকাহ বলতে শা’বান মাসের মধ্য রাত বা শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক
তিনি এ রাতে প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলোর ফায়সালা করে থাকেন।” [সূত্র: ছফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন ৪র্থ খন্ডঃ ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে ইবনে আব্বাস,তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাযহারী ১০ম খন্ড ,তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে খাযিন, বাগবী, কুরতুবী, বীর, রুহুল বয়ান, আবী সাউদ, বাইযাবী, দূররে মানছূর, জালালাইন, কামলালাইন, তাবারী,লুবাব, যমুদ দুরার, মাদারিক]

লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাতকে বুঝানো হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দু’খানের ৪ নম্বর আয়াত শরীফ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ । এই আয়াত শরীফ এর ﻳُﻔْﺮَﻕُ শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ ﻳُﻔْﺮَﻕُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়,ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়, ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেওয়া হয় । কাজেই ইয়ুফরাকু -র অর্থ ও তার ব্যাখার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে রমাদ্বান মাসের লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু হয়। এজন্য শবে বরাতকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ ফায়সালার রাত্র এবং শবে ক্বদরকে লাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়। (তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে খাযীন, তাফসীরে ইবনে কাছীর,বাগবী, কুরতুবী,রুহুল বয়ান, লুবাব)

সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সুরা দু’খান-এ বলেছেন, ” আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল-আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি “। আর সুরা ক্বদর-এ ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল, আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি “। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে বরাতে কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং শবে ক্বদরে তা নাযিল করেন। হাদীছ শরীফ এ ও শবে বরাতে সমর্থন পাওয়া যায়।

হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, ” উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ! আপনি কি জানেন,লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাতে কি সংঘটিত হয়? তিনি বললেন, হে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! এ রাত্রিতে কি কি সংঘটিত হয়?

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এ রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জম্মগ্রহণ করবে এবং কতজন লোক মৃত্যূবরণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। আর এ রাতে বান্দার (এক বছরের) আমলসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার (এক বছরের) রিযিকের ফায়সালা হয়”। (বাইহাক্বী,ইবনে মাজাহ্, মিশকাত শরীফ) হাদীছ শরীফ আর ও ইরশাদ হয়েছে, ” উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাতযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়ত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম।সেখানে তিনি উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফ এ ফিরে এলে তিনিও ফিরে এলেন এবং বললেনঃ আপনি কি মনে করেন মহান আল্লাহ পাক উনার
হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললামঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই মহান
আল্লাহ পাক তিনি শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন”। (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ, রযীন, মিশকাত শরীফ) হাদীছ শরীফ এ আর ও ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রিতে ঘোষনা করেন যে, উনার সমস্ত মাখলুকাতকে ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা- বিদ্বেষকা
রী ব্যতীত।” (ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত শরীফ) হাদীছ শরীফ এ আর ও ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যখন অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাতে সজাগ থেকে ইবাদত- বন্দেগী করবে এবং দিনের বেলায় রোযা রাখবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষাণা করতে থাকেন,কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন মুছিবগ্রস্ত ব্যক্তি আছো কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব। এভাবে সুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষাণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাযাহ্,মিশকাত শরীফ,মিরকাত শরীফ)
হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শা’বানের মধ্য রাতে (শবে বরাত) ইবাদত করবে তারই জন্য সুসংবাদ এবং তার জন্য সমস্ত কল্যাণ” হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে এবং অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সে ব্যক্তির অন্তর ঐদিন মরবে না বা পেরেশান হবে না যে দিন সকলের অন্তর পেরেশান থাকবে।” (মুকাশাফাতুল কুলুব)

শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যেগুলোতে দোয়া করলে তা রদ বা বাতিল হয়না ।(১) পহেলা রজবের রাত (২) শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত (৩) জুমুয়ার রাত (৪) পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত (৫) পবিত্র ঈদুল আযহার ত।” (দায়লামী শরীফ) শবে বরাতের রাতে দোয়া কবুল প্রসঙ্গে অন্য হাদীছ শরীফ এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দোয়া বা মুনাজাত পাঁচটি রাতে কবুল হয়ে থাকে ।(১)পহেলা রজবের রাত (২) শা’বানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত (৩)ক্বদরের রাত (৪) পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত (৫) পবিত্র ঈদুল আযহার রাত (মা ছাবাত বিস্ সুন্নাহ, গুনইয়াতুত্ ত্বালিবীন,মুকাশাফাতুল কুলুব) সুতরাং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। অনেকে উপরে উল্লেখিত শবে বরাত সম্পর্কিত কিছু হাদীছ শরীফ দ্বয়ীফ বলে শবে বরাতকে বিদায়ত বলে থাকেন।

যারা কথায় কথায় সিহাহ সিত্তার দলিল
দেখতে চায় বা দেখাতে চান তাদের উদ্দেশেই বলবো, সিহাহ সিত্তাহ ছাড়াও সহিহ হাদীসের আরো বিশাল ভান্ডার আছে। কিন্তু শবে বরাআত এর দলিল এর জন্য সে দিকে যেতে হবেনা, সিহাহ সিত্তাতেই রয়েছে।

যেমন তিরমিযী শরীফের
كتاب الصوم عن رسولالله صلی الله عليه وسلم-
অধ্যায়ে
باب ما جاء في ليلۃ النصف من شعبان-
নামে আলাদা পরিচ্ছেদ রয়েছে।

“সুনানে ইবনে মাযাহ” শরীফে ১৫ শাবানের ফজিলত নিয়ে
كتاب اقامۃ الصلاۃ والسنۃ فيها-
অধ্যায়ে
باب ما جاء في ليلۃ النصف من شعبان-
নামে আলাদা পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন।

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার কোন কথাই দ্বয়ীফ নয় বরং রাবীর
দুর্বলতার কারণে হাদীছ শরীফ
কে দ্বয়ীফ বলা হয়। দ্বয়ীফ হাদীসের
দুর্বলতার কম বা বেশী হতে পারে। কম দুর্বলতা হাসানের নিকটবর্ত্তী আর বেশি হতে হতে মওজুতে পরিণত হতে পারে। এ ধরনের
হাদীছ শরীফ আমলে উৎসাহিত করার
জন্য বর্ণনা করা যেতে পররে বা করা উচিৎ। তবে আইন প্রণয়নে গ্রহনযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম ইবনে হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “দ্বয়ীফ হাদীছ যা মওজু নয় তা ফজিলতের আমল সমূহে গ্রহণযোগ্য” (ফতহুল ক্বাদীর)

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বিহ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “সকলেই একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ ফজিলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে।” (আল মওজুআতুল কবীর, ১০৮ পৃষ্ঠা) উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হল যে, দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব।যেমনঃ আল্লামা ইব্রাহিম হালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার
গুলিয়াতুল মুস্তামালী ফি শরহে মুনিয়াতুল মুছাল্লি কিতাবে উল্লেখ করেছেন, “গোসলের
পরে রূমাল (কাপড়) দিয়ে শরীর মোছা মুস্তাহাব।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত
আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার
থেকে বর্ণিত আছে –মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক টুকরা কাপড় (রূমাল) ছিল
যা দিয়ে তিনি অযুর পরে শরীর মুবারক
মুছতেন” (তিরমিযি শরীফ) এটা দ্বয়ীফ হাদীছ।
কিন্তু ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল
করা যাবে। হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আল মওজুআতুল কবীরের ১০৮ পৃষ্ঠায় বলেন,
“সকলে একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাসিল করার জন্য আমল করা জায়েজ আছে। এজন্য আমাদের
আইম্মায়ি কিরামগণ বলেছেন, অযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা মুস্তাহাব।” তার মানে অযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা -এটি দ্বয়ীফ হাদীছ।
সুতরাং যারা শবে বরাতের হাদীছ শরীফ সংক্রান্ত কিছু দলিলকে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ বলে শবে বরাত পালন করা বিদায়াত বলে তাদের এধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভূল, জিহালত পূর্ণ, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ
এর সম্পূর্ন খিলাফ।

এরপরও যারা বলবে শবে বরাত বিদআত তারা হল জাহিল এবং গোমরাহ তাদের সাথে কোন আলোচনা নেই, কোন আপোষ নেই যারা সন্দেহ, তর্ক করবে তাদেরকে তাদের
ওপর ছেড়ে দিন, সবাই নিজের আমলে ব্যস্ত
থাকুন। কারন আপনার হিসাবটা আপনাকেই
দিতে হবে।

ভিডিও তথ্য: যারা বলে আরব দেশে শবেবরাত তথা লাইলাতুল নিসফে মিন শাবান নাই ভিডিও টি তারা একবার হলেও দেখার অনুরোধ। মদীনা শরীফের মসজিদে নববীর ইমাম শাইখ আব্দুল্লাহ বুয়াইজান মসজিদে নববীর মিম্বর থেকে জুমআর নামাযের পূর্বে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান তথা শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে খুতবা প্রদান করেন।

খুতবাটি আপনি শুনতে পারেন-

ان الله ليطلع في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن –

হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মধ্য শা’বানের রাত্রিতে (শবে বরাতের রাতে) সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন, অতঃপর মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।[হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম তাদের নিজ নিজ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে হিব্বান এবং নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন।]

(Visited 21 times, 1 visits today)