শিরোনাম :
মীরসরাইয়ে ট্রাক সহ চোরাই গরু ও ২ চোর আটক জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! রাতের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত নাবিকদের মুক্তি না দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট : শ্রমিক নেতা বাহারুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরে শিয়ালের মাংস বিক্রির দায়ে একজনের কারাদন্ড রামগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মোংলা ঘসিয়াখালী চ্যানেলে জাহাজ দুর্ঘটনায় একজন নিহত ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি শ্রীঘরে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত রাঙ্গুনিয়ায় বেতাগী ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ৩ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১০ ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী

১৪টি ব্যতিক্রমী মর্যাদার অধিকারী আম্মার ইবনে ইয়াছির(রা.)

মোহাম্মাদ আলী রেজা: নবী ﷺ এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত আম্মার ইবনে ইয়াছির। যিঁনি ১৪টি ব্যতিক্রমী মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।  সর্ব প্রথম জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত পরিবার আম্মার ইবনে ইয়াছির(রা.) এর পরিবার।

“ধৈর্য! হে ইয়াসিরের পরিবার! আপনাদের মিলনস্থল জান্নাতে…” -রাসূল ﷺ বললেন নির্যাতিত হতে থাকা সুমাইয়া, ইয়াসির ও আম্মার (রা.) কে দেখে।

বলা হল আজ আম্মার (রা.) এর শাহাদাত দিবস।
দিবস নিশ্চিত করতে পারলাম না, কিন্তু তাঁর মর্যাদা নিয়ে কিছু হাদিস তুলে ধরতে খুব ইচ্ছা হলো। তাঁরা যে নবীজি ﷺ’র পরম আপন, পরম ভরসার, পরম অনুগত!

আম্মার রা. অনন্য অসাধারণ পরিবারের সন্তান। ইসলামের ইতিহাসে এমন পরিবার, এক্ষেত্রে, আর পাওয়া যাবে না। ইসলামের প্রথম শহীদের পুত্র তিনি। হায়, কী পরম সৌভাগ্য সেই পরিবারের! সাইয়্যিদাতুনা সুমাইয়া রা.’র পুত্র। আবার ইসলামের প্রথম পুরুষ শহিদেরও পুত্র তিনি। সাইয়্যিদি ইয়াসির রা.’র।

কত্তবড় সৌভাগ্যবান হলে, তাঁর পিতা সাবিকুনাল আউয়ালুন, তাঁর মাতা সাবিকুনাল আউয়ালুন, খোদ আম্মার রা. ও সাবিকুনাল আউয়ালুন।
আমরা তো সাবিকুনাল আউয়ালুনের মর্তবা জানিই না। সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী আনসার ও মুহাজিরদের মর্তবা জানিই না। কুরআনে আছে। সবাইকেই সাবিকুনাল আউয়ালুনের তাবিয়ি হবার, ইত্তিবা করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

সাইয়্যিদি আম্মার রা.’র অনন্যতা নিয়ে কয়েকটা হাদিস:

প্রথম মর্যাদা: নবীজি ﷺ’র হাতেগোণা মহামনীষীদের একজন আলী রা. থেকে, মূসাইয়্যিব বিন নাযবাহ বর্ণিত, অন্যসূত্রে আলী রা. বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক নবীকে সাতজন করে মহান মনীষী দেয়া হয়েছে। আমাকে দেয়া হয়েছে চৌদ্দজন মহামনীষী।

আলী রা. বলেন, তাঁরা হলেন আমি, আমার দুই ছেলে, যাফর, হামযা, আবু বাকার, উমার, মুসআব, বিলাল, সালমান, মিকদাদ, হুযাইফা, আম্মার এবং আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ রা.।
অন্যসূত্রে, আবুযার রা.।

১. তিরমিযি, আহমাদ, শাইবানি, তাবারি, ইবনু মূসা, ইবনু আবদিল বার, হালাভি, ইবনু আহমাদ খতিব।

২. খতিব, আহমাদ, দারু কুতনি, ইবনু যাওযি, বাইহাকি, দুরকি, তাবারি।

দ্বিতীয় মর্যাদা: আম্মার রা. পাক-পবিত্র
আলী ইবনু আবু ত্বলিব রা. বর্ণিত, আমি নবী ﷺ’র কাছে বসা ছিলাম। আম্মার ইবনু ইয়াসির প্রবেশানুমতি চাইলেন। নবী ﷺ বলেন, তাকে অনুমতি দিন। এই পাক ও পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম।

১/১৪৬ হাদিসের মান সহিহ; ২/১৪৭ হাদিসের মান সহিহ; সুনান ইবনু মাজাহ; ২৩. আম্মার বিন ইয়াসির রা.’র সম্মান, কিতাব ভূমিকা পর্ব (كتاب المقدمة)

তৃতীয় মর্যাদা: সাবিকুনেরও সাবিকুন: প্রথম আট ইসলাম গ্রহণকারীর একজন
আম্মার রা. বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সাথে মাত্র পাঁচজন ক্রিতদাস, (বিলাল, যাইদ ইবনু হারিসা, আমির ইবনু ফুহাইরা, আবু ফুকীহা ও আম্মারের পিতা ইয়াসির) দু’জন মহিলা (খাদিজা ও সুমাইয়া) এবং আবু বাকার রা. ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না।
৩৩৯৮; ৩৫৭৮; বুখারি, সহিহ, ইফা, কিতাব ৫০/ আম্বিয়া কিরাম

চতুর্থ মর্যাদা: ভালর চেয়েও ভাল যিঁনি
আম্মা আয়িশা রা. বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আম্মার এমন ব্যক্তি, যাঁকে দুটি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হলে তিনি অধিকতর হিদায়াতপূর্ণ বিষয়টি গ্রহণ করেন।

সুনান ইবনু মাজাহ; ৩/১৪৮ হাদিসের মান সহিহ। ২৩. আম্মার বিন ইয়াসির রা.’র সম্মান। কিতাব ভূমিকা পর্ব (كتاب المقدمة)

পঞ্চম মর্যাদা: জান্নাতের প্রতি আহ্বান করতে করতে শহিদ যিঁনি, যাঁর দু:খে নবীজি দু:খী, বড় বড় যুদ্ধে যিঁনি চিরসাথী, যাঁর গায়ের ধূলা নবীজি ঝাড়েন, যাঁর কর্মোদ্যম দ্বিগুণ

ইকরিমা র. বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রা. আমাকে ও তার ছেলে আলী র.-কে বললেন, আপনারা উভয়ই আবু সাঈদ রা.’র কাছে যান এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনে আসুন। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাদরে হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসলেন। হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন, শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন,
আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর আম্মার রা. দুটো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। নবী ﷺ তা দেখে তাঁর দেহ থেকে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবু সাঈদ রা. বলেন, তখন আম্মার রা. বললেন, আমি ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

দ্বিতীয়ত: আম্মাজান উম্মু সালমা রা. বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আম্মার রা.-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনাকে এক বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী হত্যা করবে।

তৃতীয়ত: আম্মাজান উম্মু সালমা রা. বর্ণিত,
রাসূল পাক ﷺ ইরশাদ করছিলেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয় পরকালের কল্যাণই প্রকৃত কল্যাণ। অতএব আপনি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন। ইতোমধ্যে হযরত আম্মার রা. উপস্থিত হলে নবী কারিম ﷺ ঘোষণা করেন, হে সুমাইয়া রা.’র পুত্র! আপনাকে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হত্যা করবে।

চতুর্থত: উম্মুল মু’মিনিন উম্মু সালমা রা. বলেন,
কীভাবে আমি খন্দকের যুদ্ধের দিনের কথা ভুলব? রাসূল ﷺ দুধ বণ্টন করছিলেন, তাঁর মাথা মুবারক ছিল ধুলোয় মলিন। তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই কল্যাণ হলো আখিরাতের কল্যাণ, আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর সাহাবি আম্মার রা. এলেন। রাসূল ﷺ বললেন, হে সুমাইয়া রা.’র পুত্র! আপনাকে বিদ্রোহীরা হত্যা করবে।

পঞ্চমত: হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ আম্মার রা.-কে বলেছেন, আপনাকে বিদ্রোহীরা হত্যা করবে।

ষষ্ঠত: হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি আবু কাতাদা রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আম্মার রা.-কে বলেছেন, হে সুমাইয়া রা.’র পুত্র আমি আপনার প্রতি সমব্যথী হচ্ছি। অতঃপর তিনি তার মাথা থেকে ধুলোবালি মুছে দিলেন এবং বললেন, আপনাকে বিদ্রোহীরা হত্যা করবে।

সপ্তমত: সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন,
রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, আম্মার রা.-কে বিদ্রোহীদের একটি দল হত্যা করবে।

অষ্টমত: সপ্তমটাই সম্পূর্ণ ভিন্ন সহিহ সনদে বর্ণিত।
১. বুখারি, সহিহ, কিতাব ৪৮/ জিহাদ ও কিতাব ৮/ নামায
২. মুসলিম, সহিহ ও নাসাঈ
৩. মুসনাদ আহমাদ, মুসলিম, সহিহ, নাসাঈ
৪. আবু ইয়ালা, নাসাঈ, আহমাদ
৫. আহমাদ, আবু নাঈম, বুখারি, হাকিম, নাসাঈ বাইহাকি, খারিজমি।
৬. আহমাদ, মুসলিম, ইবনু সাদ, আবু নুআইম, বাইহাকি, খতিব, ইবনু আসাকির।
৭. আহমাদ, নাসাঈ, হাকিম, ইবনুল আরাবি, মুসলিম, সহিহ, তাবারি, আবি শাইবা।
৮. আহমাদ, নাসাঈ, হাকিম সহ অনেক মুহাদ্দিস।
যাই হোক, এই হাদিসটি মুতাওয়াতির। জাহান্নামের দিকে আহ্বানের বিষয়টিও মুতাওয়াতির অথবা মাশহুর। বহু সূত্রে সহিহ। এখানে হাদিসের প্রতিটি উপখন্ডে জাহান্নামের দিকে আহ্বান আমরা উল্লেখ করলাম না, যদিও তা হাদিসেই ছিল, এটা এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় মনে হল।

ষষ্ঠ মর্যাদা: এক জবানের মানুষ যিঁনি
আম্মার বিন ইয়াসির রা. বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, দুনিয়াতে যার দুটি মুখ হবে (দু মুখে কথা বলবে) কিয়ামতের দিন তার আগুনের দুটি জিভ হবে।
[আবু দাউদ ৪৮৭৩, ইবনু হিব্বান, সিলসিলা সহিহা ৮৯২]

সপ্তম মর্যাদা: আল্লাহ তাঁর পক্ষ নেন এবং তাঁকে ভালবাসেন। প্রিয়নবী ﷺ বলেন, নিশ্চয় যে আম্মার রা.’র সাথে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাআ’লা তার শত্রু হবেন। যে আম্মার রা.-কে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাআ’লা তাকে ঘৃণা করবেন। যে আম্মার রা.-কে গালাগালি করবে, আল্লাহ তাআ’লাও তার সাথে একই ব্যবহার করবেন।[ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল র., মুসনাদ, হা. ১৬৮২১]

অষ্টম মর্যাদা: শয়তানের ধোঁকা থেকে নিরাপদ। যিঁনি আপনাদের মাঝে কি তিনি নেই যাঁকে আল্লাহ শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনু ইয়াসির রা.) [বুখারি, সহিহ, ইফা, আম্মার ও ইয়াসির রা.’র মর্যাদা, কিতাব ৫০, আম্বিয়া কিরাম]

তিনি বললেন, আপনাদের মাঝে কি তিনি নেই যাঁকে আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ’র জবানীতে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আম্মার (ইবনু ইয়াসির) রা.। আমি বললাম, হ্যাঁ।
বুখারি, সহিহ, ইফা, আম্মার ও ইয়াসির রা.’র মর্যাদা, কিতাব ৫০/ আম্বিয়া কিরাম

নবম মর্যাদা: মুহাজিরদেরও আদি যিঁনি
বারা রা. বর্ণিত, সর্বপ্রথম আমাদের মধ্যে (মদিনায়) আগমন করেন মুসআব ইবনু উমাইর ও ইবনু উম্মু মাকতুম রা.। তারপর আমাদের কাছে আসেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির ও বিলাল রা.।
বুখারি, সহিহ, ইফা, কিতাব ৫০, আম্বিয়া কিরাম

দশম মর্যাদা: সালাতের জন্য পাগল যিঁনি, যাঁর জন্য তায়াম্মুমের বিধান জানা গেল
আম্মার ইবনু ইয়াসির রা. উমার ইবনুল খাত্তাব রা.-কে বললেন,

আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময় আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল… আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে নামায আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী ﷺ’র কাছে বর্ণনা করলাম।

তখন নবী ﷺ বললেন, আপনার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল… নবী ﷺ দু’হাত মাটিতে রেখে এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসেহ করলেন।
বুখারি, সহিহ, ইফা, কিতাব ৭

একাদশ মর্যাদা: পরম বিনয়ী, অনুগত, মাটির মানুষ যিঁনি মাটিকে আপন করে নিয়ে আলী রা. উপাধি পেয়েছিলেন আবু তুরাব। কারণ সেটা নবীজি ﷺ পছন্দ করেছিলেন। তেমনি, মাটিতে শুয়েছেন খলিফা থাকাকালে উমার রা., উসমান রা. ও আলী রা. তিনজনই।

সাইয়্যিদি আম্মার বিন ইয়াসির রা. বলেন,
আমি ও মাওলায়ি আলী রা. উশাইরার যুদ্ধে সহাবস্থান করছিলাম, অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সেখানে এলেন, তখন আমরা বনি মুদলাজ গোত্রের কতিপয় লোককে তাদের কূপ বা খেজুর বাগানে কাজ করতে দেখলাম।

আলী রা. আমাকে বললেন, হে আবু ইয়াক্বযান, আপনি কি আমার সাথে ঐ লোকদের কাছে গিয়ে দেখতে চান, তারা কীভাবে কাজ করছে? আমি বললাম হ্যাঁ, তবে আপনি যদি চান।

আমরা তাদের কাছে পৌঁছালাম। কিছুক্ষণ কর্মচাঞ্চল্য দেখলাম, কিছুটা তন্দ্রানুভব করলাম এবং চলতে আরম্ভ করলাম, একটি বালুকাময় স্থানে এসে খেজুর গাছের ছায়ায় শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। আল্লাহর শপথ, আমরা ততক্ষন পর্যন্ত জাগ্রত হলাম না, যতক্ষন পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ এসে তাঁর পা মুবারক দিয়ে আমাদের নাড়া না দিলেন এবং বালুকাময় জমিনে ঘুমানোর কারণে আমাদের শরীর ধুলিময় হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ আলী রা.’র গায়ে ধুলা দেখতে পেয়ে বললেন, আপনার কি হলো আবু তুরাব? আমি কি আপনাদেরকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তির ব্যাপারে অবগত করবো না?

আমরা বললাম, অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ!
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সামুদের উহাইমার, যে সালিহ আ.’র উষ্ট্রীর স্তন কর্তন করেছিল এবং হে আলী রা.! যে আপনাকে আঘাত করবে এখানে (একথা বলে তিনি আলী রা.’র মাথায় হাত রাখলেন) এমনকি সে রক্তে রঞ্জিত করবে আপনার এটিকে (এ কথা বলে তিনি আলী রা.’র দাড়ি ধরলেন)। [আহমাদ একাধিক গ্রন্থে, ইবনু ইসহাক, নাসাঈ]

দ্বাদশ মর্যাদা: নিজে থেকেই মুসলিম যিঁনি
আহা, সেকী ভরাট, পূর্ণ হৃদয়! নবী ﷺ এসেছেন শুনে তিনি নিজেই দারুল আরকামে গেছেন, নিজেই নবীজির কথা শুনেছেন এবং নিজেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবনু সাদ, কিতাব আত তাবাকাত আল কাবির। তৃতীয় খন্ড, বদরি সাহাবিগণ।
তিনি সাইয়্যিদি আবু বাকার রা. দ্বারা ইসলাম আগমনের খবর শুনে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

ত্রয়োদশ মর্যাদা: বদর যুদ্ধের দুর্লভ ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীর মর্যাদাবান যিঁনি
মুহাম্মাদ ইবনু সাদ, কিতাব আত তাবাকাত আল কাবির। তৃতীয় খন্ড, বদরি সাহাবিগণ।

এছাড়া বাকী মর্যাদাগুলোর মধ্যে কিছু হলো, নবীজি ﷺ’র প্রিয়, নবীজি ﷺ’র আপন, নবীজি ﷺ’র বিশ্বস্ত, নবীজি ﷺ’র দ্বারা নিশ্চিতায়িত শহিদ, আর প্রথম দুই শহিদের সন্তান তো আছেই।
এই তথ্যগুলো একত্র করে গ্রন্থিত করতে কিছুটা পরিশ্রম হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, যদি নবীজি ﷺ’র আপনজনের প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধিতে ও ঈমান আমল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, তবেই সার্থকতা। আল্লাহ আমাদের সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন মহামহিম নবী ﷺ এবং তাঁর আপনজনদের প্রতি। লেখক: সহ-সম্পাদক, চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

(Visited 48 times, 1 visits today)