শিরোনাম :
মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) নির্বাচিত হলেন চট্টগ্রাম ট্রিবিউন নির্বাহী সম্পাদক মহিউদ্দিন ওসমানী মিরসরাই উপজেলা,বারইয়ারহাট ও মিরসরাই পৌরসভা বিএনপি’র প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত সাতকানিয়ায় প্রবাসী যুবলীগ নেতা তৈয়বের বাড়িতে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে মক্কা যুবলীগের প্রতিবাদ সভা মীরসরাইয়ের ১৬ ইউপি চেয়ারম্যান শপথ নিলেন আজ ইশতেহার, উন্নয়ন দর্শন ও জনঘনিষ্ট কর্মসূচিই হোক নির্বাচনী কৌশল ৩য় বার আবুতোরাব স্কুলের সভাপতি হলেন আবুল হোসেন বাবুল ওলিয়ে কামেল গোলাম রহমান(রহ.) ও কিছু কথা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১০ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধন কবিতাঃ ‘বই’ মোবারক উদ্দিন সিয়াম সরওয়ার উল্যাহ ফাউন্ডেশন ও লায়ন্স ইম্পেরিয়াল সিটির ফেনীতে চিকিৎসা সেবা প্রদান

ওলিয়ে কামেল গোলাম রহমান(রহ.) ও কিছু কথা

আগামী ২০জানুয়ারি ২০২২ বৃহস্পতিবার ইছালে সাওয়াব মাহফীল

মাও. জিয়াউল হালিম মোর্শেদ: ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিকভাবে ইসলামের আগমন ঘটে মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাশিমের হাত ধরে। এর আগে তারা ভাবতো ইসলাম আরবদের ধর্ম। ইসলামের সৌন্দর্যের সাথে তারা পরিচিত ছিলো না। মুহম্মদ বিন কাশিমের হাত ধরে ইসলাম উপমহাদেশে আসলেও সাধারণ মানুষদের কাছে পৌছায়নি। এরও কয়েকশত বছর পর আসেন ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি। তখনও অবস্থার পরিবর্তন তেমন একটা হয়নি। সাধারণ মানুষদের কাছে পৌছানোর জন্য তখন আসেন ওলি আউলিয়ারা ও দ্বীনের দাঈগন।

আউলিয়ারা ও দ্বীনের দাঈগন বিভিন্ন দেশ থেকে এসে মিশে গিয়েছেন সাধারণ মানুষদের সাথে। তাদের আচরণগত সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে মানুষজন ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সাধারণ মানুষদের সাথে মিশে তাদের সুখ-দুঃখ শুনতেন, বিপদ আপদে পাশে দাড়াতেন। এভাবেই সাধারণ মানুষের অন্তরে আউলিয়ারা ও দ্বীনের দাঈগন যায়গা করে নিয়েছিলেন।

সে ধারাবাহিকতায় উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই অঞ্চল অসংখ্য পীর, মাশায়েখ, অলি-আউলিয়া ও দ্বীনের দাঈগনের রত্নগর্ভা হয়ে ঐতিহাসিক স্থান দখল করে আছে।

এতদাঞ্চলের অসংখ্য পীর, মাশায়েখ, অলি-আউলিয়া ও দ্বীনের দাঈগনের অন্যতম একজন ওলিয়ে কামেল গোলাম রহমান(রহ.)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানাধীন ইছাখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ ওমর ছিলেন এলাকার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিত্ব।

মাওলানা শেখ গোলাম রহমান(রা.) এর- শিক্ষাজীবন শুরু হয় বাড়ির দরজায় প্রতিষ্ঠিত মক্তবে। অতঃপর তৎকালীন দেওবন্দ ও বিখ্যাত কলকাতা আলিয়ায় গমন করেন এবং তিনি কোরআন হাদীসে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে এবং দেশে ফিরে এসে তিনি দ্বীনের দাওয়াহর কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের পথে আহবান করেন। তিনি তাঁর বাড়ির দরজায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ফুরফুরা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (রহঃ) এর মুরিদ ও খলিফা নিযুক্ত হন। পারিবারিক জীবনে তিনি করেরহাট হামিদ মিয়াজী বাড়িতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উনার চার ছেলে দুই মেয়ে। তাঁর পুত্র সন্তান মাওলানা ইসমাইল (রাঃ), মাওলানা ইসহাক (রাঃ), মাওলানা বাকি বিল্লাহ (রাঃ), মাওলানা ফজলুল করিম (রাঃ)। তিনি তাঁর সকল পুত্রসন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। ওনার দুই মেয়েকেও দ্বীনি তরবিয়তে বড় করে তোলেন। উনার প্রথম স্ত্রী ইন্তেকালের পর উনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন ছদমারদিঘীর পাশে সুলতান মিয়ার বাড়িতে, ঐ ঘরে আরো দুই কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বর পুত্র মাওলানা ইসমাইল (রাঃ) আমানুল্লাহ মুন্সি বাড়িতে বিয়ে করেন কিন্তু কোন উত্তরসূরী রেখে যাননি।

দ্বিতীয় পুত্র মাওলানা ইসহাক (রাঃ) তেমুহানী ডিপুটি বাড়িতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উনার চার মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে যান। উনার একমাত্র ছেলের নাম মাওলানা মেশকাত উদ্দিন (রাঃ), উনি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা।

তৃতীয় পুত্র সন্তান মাওলানা বাকী বিল্লাহ (রাঃ) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করেন।

উনার কনিষ্ঠ ছেলে মাওলানা ফজলুল করিম (রাঃ), উনি মাদবার হাট মান্দালী ভূইয়া বাড়ীতে বিবাহ করেন। উনার তিন ছেলে ও এক মেয়ে, প্রথম ছেলের নাম মাওলানা আবু জাফর (রাঃ), দ্বিতীয় মাওলানা রেদোয়ানুল হক (রাঃ), ও কনিষ্ঠ ছেলে জনাব নিজামুদ্দিন।

মাওলানা গোলাম (রাঃ) এর অনেক কেরামত বিদ্যমান ছিলো, এর মধ্যে একটি হলো তার ছোট ছেলে মাওলানা ফজলুল করিম (রাঃ) কে পড়ানোর সময় পড়াশোনা করছে না দেখে তিনি বলেছিলেন, তুমি কি বোবা হয়ে গেছো? তখন সত্যি সত্যি ছোট ছেলে মাওলানা ফজলুল করিম (রাঃ) এর জবান বন্ধ হয়ে গেল। তখন তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। পরে তিনি তার ছেলেকে নিয়ে মাওলানা আব্দুল জব্বার (রাঃ) সহ তার ছেলেকে নিয়ে ফুরফুরা দরবার শরিফের পীর শাহ সুফি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর সান্নিধ্যে চলে যান। সেখানে পাচ-ছয় মাস থাকার পর একদিন মাওলানা ফজলুল করিম (রাঃ) ফজরের নামাজের আজান দিচ্ছিলেন। পীরের দোয়ার বরকতে উনার জবান খুলে গিয়েছে। বাবা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন।

উনার আরেকটা কেরামত হলো, একবার অনেক লোক উনার কাছে পানি পড়ার জন্য আসলে উনি ফু দিয়ে দিচ্ছিলেন। এক ভদ্রলোক বললেন যে, তার গ্লাসে ফু লাগেনাই। হযরত গোলাম রহমান (রহঃ) দ্বিতীয়বার ফু দিলে গ্লাস ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।

মাওলানা গোলাম রহমান (রহঃ) অনেক বিনয়ী, নম্র ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন। তিনি ইলমে হাদীস, ইলমে তাফসির, ইলমে তাসাউফ এর উপর দক্ষ ছিলেন।

উনি ২০ শে জানুয়ারি ১৯২০ ইং ইহকাল ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

উনার ১০২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে, উনার বাড়ির দরজায় ২০ শে জানুয়ারি ২০২২ ইং এ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা থেকে আলোচনা সভা ও মিলাদ কিয়ামের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় বহু ওলামায়ে কেরামের শুভাগমন। আপনারা এতে শরিক হয়ে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করুন, উনাকে যেনো আল্লাহ তায়ালা জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। আমীন, ছুম্মা আমীন।

(Visited 21 times, 1 visits today)