শিরোনাম :
মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) নির্বাচিত হলেন চট্টগ্রাম ট্রিবিউন নির্বাহী সম্পাদক মহিউদ্দিন ওসমানী মিরসরাই উপজেলা,বারইয়ারহাট ও মিরসরাই পৌরসভা বিএনপি’র প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত সাতকানিয়ায় প্রবাসী যুবলীগ নেতা তৈয়বের বাড়িতে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে মক্কা যুবলীগের প্রতিবাদ সভা মীরসরাইয়ের ১৬ ইউপি চেয়ারম্যান শপথ নিলেন আজ ইশতেহার, উন্নয়ন দর্শন ও জনঘনিষ্ট কর্মসূচিই হোক নির্বাচনী কৌশল ৩য় বার আবুতোরাব স্কুলের সভাপতি হলেন আবুল হোসেন বাবুল ওলিয়ে কামেল গোলাম রহমান(রহ.) ও কিছু কথা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১০ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধন কবিতাঃ ‘বই’ মোবারক উদ্দিন সিয়াম সরওয়ার উল্যাহ ফাউন্ডেশন ও লায়ন্স ইম্পেরিয়াল সিটির ফেনীতে চিকিৎসা সেবা প্রদান

বায়তুশ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে “ইলমে হাদীস ও ইসলামী ফিকহে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম বুখারী (রাহ.)’র অবদান” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বায়তুশ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে “ইলমে হাদীস ও ইসলামী ফিকহে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম বুখারী (রাহ.)’র অবদান” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
১ নভেম্বর ২০২১ খ্রিঃ সোমবার দুপুর দুইটায় বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে “ইলমে হাদীস ও ইসলামী ফিকহে ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ও ইমাম বুখারী (রাহ.) এর অবদান” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ)’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক, গ্লোবাল ফিলান্থ্রপিক প্লানেট (জিপিপি) ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইসলামিক ইকোনমিক এসোসিয়েশন অব কুয়েত ইউনিভার্সিটির কো-অর্ডিনেটর, মরক্কোর ইউনিভার্সিটি অব আগাদি এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক ডাইরেক্টর ড. মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন (মাহি)। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. আ.ক.ম আবদুল কাদের, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসার ড. অধ্যক্ষ সৈয়দ মাওলানা সৈয়দ আবু নোমান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ মুঈন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) এর ব্যক্তিত্ব, কৃতিত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সমকালীন যুগ থেকে নিয়ে এ যাবৎ সর্বমহলে স্বীকৃত। মুসলিম উম্মাহর বড় বড় মনীষীগণ কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামী শরীয়ার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তাঁর অসাধারণ কৃতিত্ব ও অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করে গেছেন। ইলম- আখলাকে, জ্ঞানে- গুণে এবং বোধ- বুদ্ধিতে এমন বিরল প্রতিভার অধিকারী মর্যাদাবান মানুষ ইসলামের ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। কুরআন হাদিস গবেষণা তথা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁকে সমকালীন যুগে ফকীহদের সর্দার বলে গণ্য করা হত। তিনি হানাফী মাযহাবের প্রবর্তক এবং ইমাম আজম নামে সুপরিচিত। তাঁকে প্রসিদ্ধ চার ইমামের মাঝে তাকেই শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে অভিহিত করা হয়। বর্তমানে ইরাক, মধ্য এশিয়া, ভারত, পাকিস্তান,বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মুসলমান নিজেদের জীবনচলার পথে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানে ইসলামের দিকনির্দেশনা হিসেবে তাঁর মাজহাবকে মেনে চলেন। ওসমানী সাম্রাজ্যের অন্তর্গত এলাকাসমুহে আবু হানিফা (রাহ.) এর মাজহাবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োগ করা হত। যে কোন সমস্যার সমাধান অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফার (রাহ.) এর অনুসৃত নীতি ছিল, প্রথমে কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া। কুরআনের পর হাদিস শরীফের আশ্রয় গ্রহণ করা। হাদিসের পর সাহাবায়ে কেরাম গৃহীত নীতির উপর গুরুত্ব দেওয়া। উপরোক্ত তিনটি উৎসের মধ্যে সরাসরি সামাধান পাওয়া না গেলে তিনটি উৎসের আলোকে বিচার-বুদ্ধির (কেয়াসের) প্রয়োগ করা। তাঁর সুস্পস্ট বক্তব্য ছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যে কোন ধরনের হাদিস বা সাহাবীগণের অভিমতের সাথে যদি আমার কোন বক্তব্যকে সাংঘর্ষিক মনে হয়, তবে আমার বক্তব্য অবশ্য পরিত্যাজ্য হবে। হাদিস এবং আছারে সাহাবা দ্বারা যা প্রমাণিত সেটাই আমার মাযহাব।
বক্তারা বলেন, ইসলামের ইতিহাসে যে ক’জন বিরল মনীষী রাসুল (সা.) এর সুন্নাহ সমুন্নত রাখা ও তা মানব জাতির নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম বুখারী (রাহ.)। তাঁর লিখিত হাদীস গ্রন্থ সহীহ আল বুখারী আল কুরআনের পরেই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।হাদীস সংগ্রহ ও সংকলনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক হাদীসের বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্যসমূহে ইমাম বুখারী অধিক মাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করতেন। অন্যান্য আলেমদের তুলনায় তাঁর নিজের হাদীস বাছাই প্রক্রিয়া অনেক কঠোর ছিল। প্রত্যেকটি হাদীসের বর্ণনাকারীদের ক্রমধারা বিশুদ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি হাদীসটি তাঁর সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করতেন।
হাদীসটিকে শুদ্ধ বা সহীহ হিসেবে গ্রহণ করার আগে, ক্রমানুসারে বর্ণিত সকল মানুষের জীবন তাঁকে পর্যালোচনা করতে হয়েছে। তিনি যাচাই করে দেখতেন হাদীস বর্ণনাকারীগণ কখন কোথায় বসবাস করতেন। কোন ব্যক্তি যদি আরেক ব্যক্তির থেকে শুনে কোন হাদীস বর্ণনা করেন, তাহলে তাঁরা দু’জনই একই সময়ে একই জায়গায় ছিলেন ও পরষ্পর সাক্ষাৎ করে হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন কিনা এই ব্যাপারটি নিশ্চিত হতেন। ইমাম বুখারী বর্ণনাকারীদের জীবনীও গবেষণা করেছেন যেন নিশ্চিত করতে পারেন যে বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ছিলেন, তাদের মিথ্যা বলার সম্ভাবনা নেই কিংবা হাদীসের শব্দ পরিবর্তন করবেন এমন ব্যক্তি তাঁরা নন। বর্ণনাকারীদের তালিকায় যদি এমন কাউকে পেতেন যে প্রকাশ্যে কোন গুনাহ করেছে কিংবা যাকে বিশ্বস্ত বিবেচনা করা যায়না, সেই হাদীস সাথে সাথে বাতিল করে দিতেন এবং হাদীসটি সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করতেননা যদি না অন্য শক্তিশালী কোন ধারাক্রম পাওয়া যেত। হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা নিরূপনের জন্য কঠোর নির্দেশিকা ব্যবহার করে ইমাম আল-বুখারী প্রথমবারের মতো নিয়মমাফিক ভাবে হাদীসের শ্রেণীবিভাগের কাজটি করেন। যে হাদীসগুলো তিনি পর্যালোচনা করেছেন, সেগুলো সহীহ (শুদ্ধ), হাসান (ভালো), মুতাওয়াতির (অনেক বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি ঘটেছে), আহাদ (একক), যাঈফ (দুর্বল) কিংবা মাওযু (বিকৃত) এই ভাগে ভাগ করেছেন। এই প্রক্রিয়াটি পরে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে এবং অন্যান্য হাদীসের আলেমগণও এই শ্রেণীবিভাগটি ব্যবহার শুরু করেন। ইমাম আল-বুখারীর হাদীস সংকলন এক অবিস্মরণীয় অর্জন এবং হাদীস বিজ্ঞানে এক অতুলনীয় সংযোজন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে হাদীস গবেষণা বৈজ্ঞানিক রূপ লাভ করে যেখানে কোন প্রকার পরিবর্তন বা বিকৃতি ঠেকানোর জন্য নিয়মকানুন প্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বুখারী শরীফকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যেন তা ইসলামী আইন বা ফিক্‌হ বুঝতে সাহায্য করে। সহীহ আল-বুখারীকে ৯৭টি বইয়ে বিভক্ত করা হয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে অসংখ্য অধ্যায় রয়েছে। আইনের একেকটি ইস্যুর ভিত্তিতে একেকটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে এবং সেই অধ্যায়ে সেসব হাদীস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে বিশুদ্ধ বিবেচনা করা হয় ও যেগুলোতে সেই আইনকে সমর্থন করার প্রমাণ রয়েছে।
(Visited 20 times, 1 visits today)