শিরোনাম :
বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত। জাফর আহমেদ খোকা মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনীত মিরসরাইয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন বাপ্পি চন্দ্র লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ এম সোলাইমান কাসেমীর এম.ফিল ডিগ্রী অর্জন.. শ্রমিক নেতা গোলাম মাওলার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বাধ্যবাধকতা ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের শাহ্ আবদুল মালেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণের দাবি জাহাজী প্রবিন নেতা আবুল কাসেম সারেং এর ইন্তেকাল লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে এ অংশ নিতে নৌবাহিনীর ৭৫ সদস্যের চট্টগ্রাম ত্যাগ

আফগানিস্তানের নাগরিকদের আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ বাংলাদেশের প্রত্যাখ্যান

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন অনাইন ডেস্ক: সোমবার (১৬ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, আফগানিস্তানের কিছু মানুষকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ আমরা রাখতে পারছি না।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আফগানিস্তান থেকে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিমানকে প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, আফগান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। কারণ বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। আর তালেবান সাম্প্রদায়িক শক্তি। সাম্প্রদায়িক তালেবানের ডাকে কেউ কেউ বাংলাদেশ থেকে কাবুলে পথে রওনা দিয়েছেন বলে ঢাকার পুলিশ জানিয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন আফগানিস্তানের পটপরিবর্তন বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে বলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন যতেষ্ঠ কারন কারণ আছে। বাংলাদেশে ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়, সে লগ্ন থেকে আফগান জিহাদের সঙ্গে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সরাসরি একটি যোগসূত্র রয়েছে। সে সময়ই আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলাদেশ থেকে অনেকে আফগানিস্তান গিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ স্বার্থ নিয়ে সোচ্চার। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০ বছর আগে যখন তালেবানের রমরমা অবস্থা ছিল, তখন কিছু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানে যোগ দিয়েছিল। একই সঙ্গে ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে স্লোগান দিয়ে বলেছিল, ‘বাংলা হবে আফগান, আমরা হব তালেবান’। তালেবান ফের আফগান মসনদে আসায় বাংলাদেশের ওই সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে এমনই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। কাজেই আফগান নিয়ে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে থাকা চাই।

মধ্য এশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয় বিস্তারে নতুন হাতিয়ার আফগানিস্তান। একই সঙ্গে উইঘুরকে নিয়ে পড়তে চায় না কোনো সংকটে। তাই ২০ বছর পর মার্কিনিরা যখন আফগান ছাড়ল, তখন তালেবানদের দাওয়াত দিয়েছে বেইজিং। শুধু দাওয়াতই নয়, তালেবান প্রধানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকও করেছেন। এদিকে তালেবানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণ এখনো অন্ধকারে। এ তুলনায় পাকিস্তান, ইরান কিংবা মস্কোর সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ অত্যন্ত ভালো।

কোন শক্তিধর দেশের সহযোগীতা ছাড়া তালেবানরা এই অবিশ্বাস্য গতিতে অগ্রসর হওয়া কিভাবে সম্ভব হতে পারে? তাই বলা যায়, ২০ বছর পর তালেবানের এই উত্থানের পেছনে সহযোগিতা রয়েছে চীন ও রাশিয়ার্  তাছাড়া পাকিস্তান যদি তালেবানের পাশে থাকে, ভারতের জন্য তালেবান ইস্যুটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এর ফলে ভারত যেখানে তালেবান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সেখানে ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশের কী হবে- জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গনমাধ্যমকে বলেন, আফগান পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা কারো পক্ষে নই। মোটামুটি নিরপেক্ষ জায়গা থেকেই আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

ঢাকা এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যারা আশ্রয় নিতে চায় তারা শরণার্থী না সন্ত্রাসী আমরা জানি না। এজন্য আমরা না করে দিয়েছি। তবে আফগান নাগরিকদের আশ্রয় দিতে ঢাকাকে কে অনুরোধ করেছিল এমন প্রশ্নের জবাব দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্পর্ক গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী গনমাধ্যমকে বলেছেন, আফগানিস্তানে যা চলছে তা আদর্শের যুদ্ধ নয়। সাম্প্রদায়িক মধ্যযুগীয় চিন্তা-চেতনার সংগঠন তালেবান আপাতত ওখানে জয়ী হয়েছে। মাত্র দুসপ্তাহের মধ্যে বিস্ময়করভাবে তালেবান জয়ী হলেও এর সীমাবদ্ধতা শুধু আফগানিস্তানে থাকবে না। এদের সমর্থনে আগেও বাংলাদেশ থেকে কিছু ধর্মান্ধ আফগানিস্তানে গেছেন এবার যেন সেটির পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানে যা চলছে তা ভারত, পাকিস্তানও মনে হয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। চীনও তালেবানকে চটাতে চাইছে না। এ কারণে তালেবান যাতে চীনকে শক্রু মনে না করে সেজন্য আগেভাগেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তালেবান প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আফগানিস্তান সার্কভুক্ত সদস্য দেশ। সার্কের প্রভাবশালী সদস্য ভারতও উদ্বেগে। কাজেই বাংলাদেশকে পুরো পরিস্থিতির দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।

শেষ পর্যন্ত তালেবানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে সেখানে সরকারের রূপ কী হবে তাও দেখা উচিত।  ক্ষমতা হস্তান্তরের পর আফগান সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে এখন যারা আছেন তাদের ভূমিকা কী হবে তাও পরিষ্কার হবে। এছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পর আফগানের সঙ্গে সৌদি আরব, কাতার, ইরানের সঙ্গে কী সম্পর্ক হবে- এসব বিষয় না দেখে বাংলাদেশের কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে শনিবার ঢাকার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে কিছু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পর সেখানে ধরা পড়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তার মতে, আফগানিস্তানে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য একটি আহ্বান জানানো হয়েছে তালেবানদের পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ অলরেডি তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগদান করার জন্য হিজরত করেছে। কিছু মানুষ আমরা ধারণা করছি যে ইন্ডিয়ায় ধরা পড়েছে। আর কিছু পায়ে হেঁটে বিভিন্নভাবে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে আফগানিস্তানে যাওয়ার পথে কোনো বাংলাদেশি ভারতে ধরা পড়েছে কিনা- সেটি ভারতের দিক থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আফগানিস্তান এই অঞ্চলের দেশ হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কোনো সীমান্ত নেই। বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধ পথে আফগানিস্তানে যেতে চাইলে তাকে ভারত ও পাকিস্তান পাড়ি দিতে হবে।

(Visited 27 times, 1 visits today)