টেক্সাসে ১ পরিবারের ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু || পাবনায় শোকের মাতম

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন অনলাইন ডেস্ক:  টেক্সাসে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে গ্রামের বাড়ী পাবনাতে শোকের মাতম চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পাবনায় তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে দোহারপাড়ায় ছুটে যান অনেকেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি মরদেহ দেশে দ্রুত আনার দাবি স্বজনদের। টেক্সাসের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটির বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় সোমবার ভোর রাতে।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্ব-পরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস তৌহিদুল ইসলামের। স্ত্রী আইরিন, ছেলে তানভীর ও জমজ ভাইবোন ফারহান ও ফারবিনকে নিয়ে সুখেই কাটছিল দিন। সঙ্গে ছিলেন তৌহিদুলের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসাও। কিন্তু কে ভেবেছিল একসাথে পুরো পরিবারই নির্মম মৃত্যুর শিকার হবে।

তাদের এ আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের মাতম চলছে পাবনার দোহারপাড়ায়। কোনভাবেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

নিহত আলতাফুন্নেসার ছেলে আরিফুর রহমান আলিফ জানান, তাদের এই মৃত্যু আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমার বোন কেবল তার পরিবারই নয়, আমাদেরও সবকিছু দেখভাল করত। তার নিজের সংসারে কখনো অশান্তি ছিল না। ছেলেমেয়েরাও প্রতিভাবান, মেধাবী ও ভদ্র।

মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পাবনার বাড়ি পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজার শুরু হয়।

আকস্মিক এ মৃত্যুর খবরে সকাল থেকেই ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন-প্রতিবেশীরা। তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

‘বিষণ্নতা থেকে’ পরিবারটির দুই তরুণ সহোদর তাদের মা-বাবা, নানি ও একমাত্র বোনকে হত্যার পর তারাও আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা।

ধারনা করা হচ্ছে শনিবার নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী একজনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ঘটনার সঙ্গে রয়েছে হতাশার ধারাবিবরণী।

ফেইসবুকে ঘটনার বিষয়ে লম্বা এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারহান। সেখানে তিনি ২০১৬ সালে নবম গ্রেডে পড়াবস্থায় ‘বিষন্নতায় আক্রান্ত’ হওয়ার কথা চিকিৎসকের বরাতে জানান। এজন্য তার শিক্ষাজীবন বির্পযস্ত হয়। অবস্থা গুরুতর হলে বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করে।

এক পর্যায়ে জীবন দুর্বিষহ হলে তিনি আত্মহত্যার কথা ভাবেন। কিন্তু তিনি মারা গেলে পরিবারের অন্যরা কষ্ট পাবেন। তাই তাদেরও হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর সঙ্গে ভাইকে যুক্ত করে তারা বন্দুক কেনেন।

‘আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার সারাটি জীবন কষ্ট পাবে। সেটি চাই না। সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় ভাইকে শামিল করলাম। দুই ভাই গেলাম বন্দুক ক্রয় করতে। আমি হত্যা করব ছোটবোন আর নানীকে। আমার ভাই হত্যা করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করব। কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার’।

এক সময়কার পুরান ঢাকার বাসিন্দা তৌহিদুল আট বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তিনি সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।

(Visited 14 times, 1 visits today)