ঐতিহাসিক ১৮তম পবিত্র দরসুল কোরআন মাহফিল : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

এম ইব্রাহীম আখতারী: গত ০৩ এপ্রিল ২০২১ইং অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্খিত ঐতিহাসিক ১৮তম পবিত্র দরসুল কোরআন মাহফিল। এ মাহফিল এর ধারাবাহিক আয়োজন এর ১৮তম বর্ষ ছিল ২০২০ ইং। আয়োজক সংস্থা আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মুসলেমিন বাংলাদেশ (একেএমবি) যথারীতি মাহফিলের দিনক্ষণ থ্রো করে ২০২০ সালে। এ লক্ষ্যে প্রচার-প্রকাশনার সিংহভাগ কর্মকাণ্ডও শেষ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ঐমূহুর্তে শুরু হয় বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস এর তাণ্ডবলীলা। দেশ পতিত হয় লকডাউনের কবলে। অতঃপর সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ হয়ে গেল কোরআনপ্রেমীদের বহুল কাঙ্খিত এ মাহফিল।

একই ধারাবাহিকতায় ২০২১সালের ০৩ এপ্রিল তারিখ পূনরায় এ মাহফিল এর দিনক্ষন ঘোষনা করে আয়োজক কমিটি আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মুসলেমিন বাংলাদেশ (একেএমবি)। প্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মাহফিলের ভেন্যু জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ এর অনুমতিসহ প্রচার-প্রকাশনার কাজও অধিকাংশ সমাপ্ত করে প্রস্তুতি কমিটি। তৃণমূলসহ সর্বত্র পরিলক্ষিত হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখরতা। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, আবারও ভয়ংকর হয়ে উঠে ২য় ধাপের করোনা নামক অভিশপ্ত ভাইরাস। ফলশ্রুতিতে পূনর্বার মাহফিলের উপর নাযিল হয় বিভিন্ন সরকারি বিধি-নিষেধ। একেবারে মাহফিল বন্ধের ঘোষনা না আসলেও সর্বশেষ এ মর্মে নির্দেশনা আসে যে,১০ জনের অধিক গ্যাদারিং করা যাবে না। এ ঘোষনায় পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে নিপতিত হয় মাহফিল।

কিন্তু মাহফিল প্রস্তুতি কমিটি একেবারেই অদম্য। যে কোন উপায়ে মাহফিল আয়োজনে অবিচল এবং অনড় থাকে আয়োজক কমিটি। কারণ প্রতি বছরই এ দৃষ্টিনন্দন মাহফিল উপভোগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে দেশ-বিদেশের অসংখ্য অগনিত কোরআনপ্রেমী মানুষ। অতঃপর আঞ্জুমানে খুদ্দামুল মুসলেমিন বাংলাদেশ (একেএমবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং ১৮তম দরসুল কোরআন মাহফিল প্রস্তুতি কমিটি ভার্চুয়ালী এ মাহফিল আয়োজন এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শত সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকুলতাকে মাড়িয়ে এদের সমন্বিত, সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রত্যাশিত এ মাহফিল।

উল্লেখ্য যে, সীমিত পরিসরের এ আয়োজনে কোথাও কোন বিষয়ে এতটুকুন ঘাটতি বা কৃত্রিমতা দৃশ্যমান হয়নি। বরং বরাবরের ন্যায় মাহফিল জুড়েই বিরাজমান ছিল জান্নাতী আবহ। মাহফিলের নজরকাড়া “সেট-আপ ” মুগ্ধ করে সকলকে। মাহফিলের সঞ্চালনা ছিল খুবই আকর্ষনীয়। বক্তাদের বক্তব্যে অনাহূত কালক্ষেপণ তথা অপ্রাসঙ্গিকতার মতো ইত্যাকার অযাচিত বিষয়াদি একেবারেই পরিত্যাজ্য ছিল। নির্দিষ্ট টপিকের উপর যৌক্তিক,তত্ব ও তথ্যনির্ভর আলোচনায় গোটা মাহফিল হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। সর্বোপরি প্রধান দরসকারী দেশের প্রথিতযশা আলেমেদ্বীন, শায়খুল ইসলাম হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর এর পবিত্র কুরআন থেকে সূরা কাউসার এর মনোমুগ্ধকর তাফসীরে এ জমকালো আয়োজনের ষোলকলা পূর্ণ হয়।

তাঁর উক্ত সূরার তাফসির ছিল নিঃসন্দেহে অনবদ্য ও হার্ট-টাচিং। তাঁর হৃদয়গ্রাহী আলোচনা দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শ্রবন করে। তাঁর আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল দেশের চলমান সংকট,ভিন্ন ধর্মের প্রতি মুসলমানদের ব্যবহার, সন্ত্রাস,সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টি করে সামাজিক সুস্থতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা,প্রিয় নবী এর মর্যাদা,শান-মান তথা আল্লাহ প্রদত্ত নাজ-নেয়ামত সংক্রান্ত। এসব বিষয়ে কোরআনেের আলোকে তাঁর তাত্বিক এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনায় নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতি পেয়েছে সঠিক দিকনির্দেশনা। দেশ ও জাতির এহেন সংকটাপন্ন মুহূর্তে পবিত্র কোরআনের এ মাহফিলটি ছিল সত্যিই একটি প্রশিক্ষন।
এছাড়াও প্রধান দরসকারী আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর এর হৃদয়স্পর্শী আখেরী মুনাজাত এক অন্যমাত্রা যোগ করে। মাহফিলের উপস্থিতি তথা দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতার বুকফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস মূখরিত হয়ে উঠে।
পবিত্র কোরআনের অসংখ্য মাহফিলের ভিড়ে দরসুল কোরআন মাহফিল এর মত ব্যতিক্রমী এ মাহফিল প্রকৃতপক্ষে সত্যানুসন্ধানীদের অন্যতম ভরসাস্থল । পরিশেষে করোনার চোখ রাঙ্গানীকে উপেক্ষা করে এবং রকমারী অপপ্রচার-প্রোপাগাণ্ডাকে পদদলিত করে শতভাগ সফল একটি মাহফিল উপহার দেয়ার জন্য বিনম্র শ্রদ্ধায় স্যালুট জানাই একেএমবি ও মাহফিল প্রস্তুতি কমিটির প্রতি। আশা করবো অনন্তকালব্যাপী অব্যাহত থাকুক এ পবিত্র মাহফিল। একেএমবির অগ্রযাত্রা হোক নিরুপদ্রব এবং নিস্কন্টক। লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।

(Visited 16 times, 1 visits today)