শিরোনাম :
বিজিএমই সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী নারায়ণহাট মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত সিলেট সুনামগঞ্জ বানভাসীদের মাঝে ফেনী জেলা ‘নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন’ এর ত্রাণ বিতরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন || প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের অভিনন্দন মানবতার নায়ক আবদুস সামাদ স্যার, সবার জন্য অনুসরনীয় রামগঞ্জে খালের উপর থাকা নির্মাণাধীন দুইটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মাদক কারবারী, বিশেষ অভিযানে ৫মাদক কারবারী লোহাগাড়ার শ্রীঘরে, ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যান্ত্রিক এবং মানবিক ত্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে

ধর্ম শিক্ষাকে গৌণ করে দেখা জাতির জন্য অশনি সংকেত : মুহাম্মদ শাহীদ রিজভী

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ অর্থ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহীদ রিজভী বলেছেন, ধর্ম শিক্ষাকে গৌণ করে দেখা জাতির জন্য অশনি সংকেত।

তিনি বলেছেন, একের পর এক বিতর্ক উস্কে দেয়া হচ্ছে। একটার পর একটা ইস্যু সৃষ্টি ও কবর রচনা করা হচ্ছে কার স্বার্থে! এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ দেশ, রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে দেখা যায় সরকারের ছত্রছায়ায় ঘাপটি মেরে থাকা একটা কুচক্রী মহল একদিকে সরকারকে বাম ও নাস্তিকপন্থী সাজাতে তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, একটা পক্ষ তলে তলে সরকার বিরোধী হলেও উপরে সরকারের চাটুকারিতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্বার্থসিদ্ধিতে সিদ্ধহস্ত। এদের মধ্যে একটা চক্র সরকারকে নাস্তিকতার প্রলেপ লাগায়, আরেকটা ধর্মীয় ছদ্মাবরণে উগ্রবাদ ও শিশু নির্যাতনের ষোলোকলা পূর্ণ করে।

তিনি বলেন, হকপন্থী ও শান্তিবাদী পক্ষের লোকজন সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও একদিকে সরকার মূল্যায়ন করা থেকে বিরত, অন্যদিকে তারাও মান অভিমানে নীরবতা পালন করছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা বলে- মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিজেই সুফিপন্থার অনুসারী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধার্মিকতা চর্চা করেন এবং নিজেকে সুফি বংশের উত্তরসূরী হিসেবে গর্ববোধ করেন। এক অজানা রহস্যের আচ্ছাদনে সুফিবাদী শান্তিপ্রিয় নেতৃত্বের সাথে সরকারের একটি দূরত্ব সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০২০তে সাধারণ ধারার শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু বিষয় পাঠ করানো হলেও পাবলিক পরীক্ষায় এ বিষয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। যার মধ্যে “ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা” অন্যতম। সরকারী আমলা ও একজন উপমন্ত্রীর বরাতে বলা হয়েছে “ধর্ম শিক্ষা তুলে দেয়া হবে বলে একটা মহল গুজব ছড়াচ্ছে”!! হ্যাঁ, আমলা ও মন্ত্রী মহোদয় সত্যই বলেছেন- “ধর্ম শিক্ষা তুলে দেয়া হচ্ছে না।” কিন্তু শুভঙ্করের ফাঁকিটা আরো গভীরে। মূলসত্য হলো “২০২২ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা থাকছে না”। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো বিষয়ে পরীক্ষা না নেয়া মানে ওটা গৌণ করে দেখা।

তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভি আই পি লাউঞ্জে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ঃ প্রসঙ্গ মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার” সেমিনার অনুষ্ঠান শেষ করে একই দিন সন্ধ্যায় গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় আমার লিখিত “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ঃ প্রসঙ্গ মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার” সেমিনার এর মূল প্রবন্ধ কপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়েছিলাম। এতে আমরা বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। যার মধ্যে ছিলো স্থায়ী ক্যাম্পাসে একটি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধুমাত্র এফিলিয়েটিং ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইসলামী গবেষণার অনন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারী আলীয়া মাদরাসা স্থাপন, সকল জেলায় একটি করে মাদ্রাসাকে মডেল মাদরাসা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ধাপে ধাপে দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেম পদকে জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় এনে মাদরাসা শিক্ষিতদের শিক্ষার মূল্যায়ন করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কিছু কিছু বর্তমানে বাস্তবায়িত হলেও মূ্লধারার শিক্ষাব্যবস্থায় যেভাবে ধর্মকে গৌণভাবে দেখা হচ্ছে তা নিতান্তই আশঙ্কাজনক।

(Visited 57 times, 1 visits today)