শিরোনাম :
বিজিএমই সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী নারায়ণহাট মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত সিলেট সুনামগঞ্জ বানভাসীদের মাঝে ফেনী জেলা ‘নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন’ এর ত্রাণ বিতরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন || প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের অভিনন্দন মানবতার নায়ক আবদুস সামাদ স্যার, সবার জন্য অনুসরনীয় রামগঞ্জে খালের উপর থাকা নির্মাণাধীন দুইটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মাদক কারবারী, বিশেষ অভিযানে ৫মাদক কারবারী লোহাগাড়ার শ্রীঘরে, ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যান্ত্রিক এবং মানবিক ত্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে

পরীক্ষায় ফলাফলের মাপকাঠিতে সন্তানকে বিচার করবেন না”আহসান টিটু

আগামীকাল ৩১ মে, SSC পরীক্ষার ফলাফল দিবে বোর্ড, এসময়ে সন্তানদের মানসিক চাপ দিবেন না।

প্রতি বছর SSC ও HSC পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবার পরে দেশে বহু সংখ্যক কিশোর কিশোরী আত্মহত্যা করে! কিছু কিছু পরীক্ষার্থী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়! কোন কোন পরিবারে আবার চলে ঝগড়া বিবাদ!

আগামীকাল হয়তো দেখা যাবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করবে। কেউ কেউ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করবো।

কিন্তু আমরা যতই শুভকামনা করি না কেন কিছু পরীক্ষার্থী ফেল করবেই। আবার অনেকে প্রত্যাশিত A+ পাবে না, কেউ অন্যান্য গ্রেডেও মনপুত ফলাফল না-ও পেতে পারে। তবে সত্য হলো শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফলই জীবনের সবকিছু নয়।

পরীক্ষার ফলাফলে খারাপ করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার পেছনে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক, অর্থনৈতিক অবস্থা ও সাংস্কৃতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি কারণ অনেকাংশে দায়ী। তবে এ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আশ্রয়স্থল তার পরিবার। সেখান থেকে অভিভাবকদের বিরূপ আচরণ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দেয় যা তার আত্মহত্যার সরাসরি কারণ।

সন্তান A+ না পাওয়ায় বা ফেল করায় অনেক মা কেঁদে কেঁদে চোখ-মুখ ফুলিয়ে ফেলেন; বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ করে না খেয়ে রাত কাটান! কোন কোন পিতা ঘরে এসে রেজাল্ট শুনে জিনিসপত্র ভাংচুর শুরু করে দেন, কেউ আবার বলেন, ফেল করলে/ A+ না পেলে বাড়িতে জায়গা হবে না ; এমন সন্তান থাকার চেয়ে, না থাকা ভালো; ফেল করলে পড়াশুনা শেষ করে দিবে, বিয়ে দিয়ে দেব ইত্যাদি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা শুধু মনের ক্ষোভ বা রাগ থেকে এমনটা বলেন যা তিনি পরবর্তীতে আদৌ করবেন না! কিন্তু তার আগেই মানসিক চাপে পড়া সন্তানরা আত্মহত্যা করে বসে।

আপনি আপনার সন্তানের পেছনে এক বা একাধিক প্রাইভেট টিউটর নিয়োগ দিয়েছেন, অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। আপনার সন্তানের থেকে ভালো ফলাফল আশা করার অধিকার আপনার অবশ্যই আছে। কিন্তু আপনার সন্তানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও আপনার সচেতন থাকতে হবে। পরীক্ষার আগে সারা বছর সে রুটিন ফলো করে লেখাপড়া করেছে কি-না, ক্লাস করেছে কি-না, সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল ইম্প্রুভ হচ্ছে কি-না, ঘরে পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন কি-না, কোন কোন বিষয়ে সে দুর্বল, লেখাপড়া নিয়ে সে মানসিক চাপে ভোগে কি না ইত্যাদি বিষয়ে আপনার কি শতভাগ পরিচর্যা ছিলো ?

শুধু পয়সা ঢেলে সন্তানের ভালো ফলাফলের জন্য চাপ দেওয়া একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার অন্যায় আবদার, অথবা বলতে পারেন সন্তানের প্রতি অবিচার। সন্তানদের অন্যের সাথে তুলনা করে ওদের অন্তরে হিনোমন্যতা ঢুকিয়ে দিবেন না। এতে ওদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হবে। ওদেরকে ওদের মত তৈরি করুন। রেজাল্ট যা-ই হোক ; পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করে সেখানে ওদের শতভাগ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন।

বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন পড়াশোনায় এতই খারাপ ছিলেন যে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল! স্কুল থেকে দেয়া চিঠিতে লেখা ছিল, “টমাস পড়াশোনায় খুবই অমনোযোগী এবং তার মেধাও ভালো নয়। এ ধরনের ছাত্রকে স্কুলে রাখা সম্ভব না।”

কিন্তু টমাসের মা চিঠিটা খুলে ছেলেকে পড়ে শুনিয়েছিলেন, “টমাসের মেধা সাধারণ ছাত্রদের চেয়ে অনেক বেশি। এমন মেধাবী ছাত্রকে পড়ানোর ক্ষমতা সাধারণ স্কুলের নেই। অতএব, তাকে যেন বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করানো হয়।”

মায়ের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে টমাস জটিল জটিল বিষয় পড়া শুরু করেন। বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে গিয়ে তিনি দশ হাজার বারেরও বেশি বার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তা আবিষ্কার করেন, থেমে যান নি। কারণ, তার মা তার মধ্যে এ বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে কোন কিছুই অসম্ভব নয়!

মায়ের মৃত্যুর বহুপর টমাস স্কুলের সেই চিঠিটি খুঁজে পেয়েছিলেন। চিঠিটি পড়ে তিনি ডায়েরিতে লিখেছিলেন, “টমাস ছিল একজন মেধাহীন শিশু। একজন অসাধারণ মায়ের অনুপ্রেরণায় সে হয়ে উঠে যুগের সেরা মেধাবী।”

অতএব, অমনোযোগী ছেলেমেয়েদের বার বার পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝান। তাদেরকে উৎসাহিত করুন। পড়াশোনা করে যারা সফল হয়েছেন তাদের উদাহরণ দিন। পড়াশোনা না করে যারা কষ্টে ও অভাবে আছেন তাদের উদাহরণ দিন। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের বই রাখুন। সময়ে সময়ে নতুন বই কিনুন। আপনিও বই পড়ুন। এতে বইয়ের প্রতি আপনার সন্তানের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আপনি সুযোগ পেলেই ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবেন, টিভির সিরিয়াল আর রান্নার অনুষ্ঠান দেখবেন আর আপনার সন্তান বই প্রেমিক হবে এমন আশা করা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, মারধর করে শিশু-কিশোরদের পড়াশোনায় আগ্রহী করা যায় না। তাই অভিভাবকদের কাছে বিনীত অনুরোধ, উপরোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে শুধু ফলাফলের সময়ে সন্তানদের শারীরিক-মানসিক চাপ দিবেন না। এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রিয় ফলাফল প্রত্যাশী ছাত্রছাত্রী, SSC বা HSCতে A+ মিস করেও ডাক্তার হয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন, বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, গবেষক হয়েছেন, সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন এমন উদাহরণ অসংখ্য। এবার হয়তো তুমি তোমার প্রত্যাশিত ফলাফল পাবে না। হয়তো ফেল করবে। তবে হাল ছেড়ো না। লোকে কি বলে সেটা ভেবে নিজেকে আড়াল করতে যেও না।

এ জিবনটা তোমার। একে সুন্দরভাবে তৈরি করার জন্য নিজেকে আবার তৈরি করো। ভালো ফলাফল করতে না পারলে মনখারাপ তো হবেই। তাতে কী! দু’একদিন ধৈর্য ধরো। তারপর নিজের সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো কাগজে লিখে দেখো। সমাধানের পথ বের হয়ে আসবেই।

দিনের অধ্যয়নের সময়কে রুটিনমাফিক ভাগ করে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিশ্রম কর। দেখবে, সফলতা আসবেই। বাধা যত বিশাল, বিজয়ের আনন্দও তত বাঁধভাঙা! নেলসন ম্যান্ডেলা বলেন, “আমাকে আমার সফলতা দ্বারা বিচার করো না। ব্যর্থতা থেকে কতবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি তা দিয়ে আমাকে বিচার করো।”

আহসান টিটু
প্রভাষক
কাজি আজহার আলি কলেজ।

(Visited 46 times, 1 visits today)