শিরোনাম :
চৌদ্দগ্রামের কাশিনগরে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ – দেশ সেরা অনলাইন পারফর্মার হলেন কিশোরগঞ্জ এর শিক্ষক নাজমুল হক বটন কান্তি বড়ুয়া বাবেশিকফো এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাবেশিকফো চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ, রাঙ্গুনিয়ার ইকবাল হোসেন এনামুল হক বাবেশিকফো এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাবেশিকফো এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটি ঘোষনা, সভাপতি শরীফুল ইসলাম সম্পাদক মোখলেছুর রহমান জেদ্দায় লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি কর্তৃক ডঃ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী (এমপি) সংবর্ধিত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর প্রতি খোলা চিঠি ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি দরবারে জশনে জুলুছের প্রস্তুতি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণির বার্ষিক ও ১০ম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা সংক্রান্ত মাউশির পরিপত্র জারি ,পরীক্ষা হবে তিন বিষয়

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০% কর্তন: একরাশ ক্ষোভ, দুঃখ ও বেদনা

বিশেষ নিবন্ধ(শিমুল কান্তি মহাজন): এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে চরম ব্যথা, ক্ষোভ ও দুঃখ বিরাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব কর্তৃক গত ১৫ এপ্রিল ২০১৯ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট লিখিত আদেশ- এ ক্ষোভের কারণ। দেশের ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিতদের উপর এমন অমানবিক আচরণ কেউ সহজভাবে মেনে নেয়নি। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এ যাবত যতটুকু অর্জন সবটুকু আন্দোলনের ফসল। সর্বশেষ ২০১৮ সালের শিক্ষক আন্দোলন ছিল স্মরণকালের বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা প্রদান করে সকলের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের আর্থিক সমস্যা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়নের কথা উপলব্ধি করে অতীতের ন্যায় “৮ম জাতীয় পে স্কেল” প্রদান করে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। কিন্তু যখন সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগণ শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং ন্যায্য বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান, ঠিক তখনই শিক্ষক সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা না করেই এবং বাড়তি সুযোগ সুবিধা ঘোষণা ছাড়াই অতিরিক্ত এই কর্তনের ফলে শিক্ষক-কর্মচারিদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

২০১৭ সাল থেকেই এই চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৩ দিন পূর্বে ১০% কর্তনের জন্য পুনরায় একটি আদেশ জারি করা হয় মন্ত্রণালয় থেকেই। সেটিও শিক্ষক কর্মচারীদের অসন্তোষের প্রেক্ষিতে মাননীয় শিক্ষা সচিব জনাব সোহরাব হোসাইন ভুল স্বীকার করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৯ অবসর সুবিধা বোর্ডের সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দের সামনে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন না করার জন্য অভিমত পুনর্ব্যক্ত করেন। পরিতাপের বিষয় পুনরায় গত ১৫ এপ্রিল ২০১৯ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত আদেশ প্রদান করেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে কর্তন শুরু করা হয়। বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা না পেলে অতিরিক্ত চাঁদা কর্তনে বেসরকারি শিক্ষকদের লাভ কী?

কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করে অবসরগ্রহণকারীদের টাকা প্রদানের ব্যবসা করতে হবে কেন? অবসর গ্রহণের ২ মাসের মধ্যে সকলের নিজ নিজ একাউন্টে টাকা প্রাপ্তি এখন সময়ের দাবি। দু’ট্রাস্টের সদস্য সচিবদ্বয়ের অযৌক্তিক-দাবি শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে বাড়তি ৪ শতাংশ অর্থ প্রতি মাসে কেটে রেখে ঘাটতি মেটাতে হবে। এতে শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমাকৃত টাকার কোনো সঠিক হিসাব নেই। বিগত সময়ে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা লোপাটের কথা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষকদের জমাকৃত ট্রাস্টের টাকা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় পছন্দের ব্যাংকে রেখে বিগত সময়ে কতিপয় সদস্য সচিব নিজেই লাভবান হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার হিসাব চাওয়া হয়েছে।

সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেলায় এরকম তো হচ্ছে না। কেবল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেলায় যত জবরদস্তি আর জুলুম। এ সমাজে শিক্ষক সম্প্রদায় একটি চরম অবহেলিত পেশাজীবী গ্রুপ- বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষকরা। শিক্ষকতা এখানে অমর্যাদাকর, শিক্ষকরা অসহায়। শিক্ষকদের সম্পর্কে বিদ্যমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি সরকারি দৃষ্টিভঙ্গিও রীতিমতো অস্বস্তিকর। অতিরিক্ত কর্তনের সার্কুলারটি জারির পূর্বে শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা অপরিহার্য ছিল। চাঁদা বৃদ্ধির আগে কী পরিমাণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে সেটি স্পষ্ট করা দরকার ছিল। এ সব বিষয়ে ফয়সালা না করে কেবল চাঁদা বৃদ্ধির বিষয়টি অন্যায় ও অযৌক্তিক।

শিক্ষার জন্য সরকারকেই বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালু করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি বেসরকারি বৈষম্য দূর হওয়া প্রয়োজন। সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা অপশক্তি, তাদের মানসিকতা- তাঁরা শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করে শিক্ষার উন্নয়ন চায়। শিক্ষক ও এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের অসম্মান করে শিক্ষার যথাযথ মান উন্নয়ন হবে না। ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব প্রাপ্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা পেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকানিত্মক প্রচেষ্টায় দেশ আজ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। তাঁর নেতৃত্বে দেশ আজ সারা পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল। তাই তাঁর কাছে প্রত্যাশা-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা জাতীয়করণ এর লক্ষ্যে সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান সহ পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালুকরণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের জন্য নির্দেশনা দেবেন। লেখক: শিমুল কান্তি মহাজন, প্রধান শিক্ষক, ড.শহিদুল্লাহ একাডেমী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। ১/এম ওসমানী/ ১৯

(Visited 72 times, 1 visits today)