শিরোনাম :
বিজিএমই সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী নারায়ণহাট মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত সিলেট সুনামগঞ্জ বানভাসীদের মাঝে ফেনী জেলা ‘নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন’ এর ত্রাণ বিতরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন || প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের অভিনন্দন মানবতার নায়ক আবদুস সামাদ স্যার, সবার জন্য অনুসরনীয় রামগঞ্জে খালের উপর থাকা নির্মাণাধীন দুইটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মাদক কারবারী, বিশেষ অভিযানে ৫মাদক কারবারী লোহাগাড়ার শ্রীঘরে, ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যান্ত্রিক এবং মানবিক ত্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে

হাসিনা আমাকে শেষ পর্যন্ত জেলে নেওয়ার মতো ভুল করবে না

প্রত্যহ নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার উপরই আস্থা রাখলেন। দলে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না, হাসিনা আমাকে গ্রেপ্তার করার মতো ভুল করবে।’ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে এবং পরে দলে তাঁর বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বেগম জিয়া এই মন্তব্য করেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়। এই রায়ের প্রেক্ষাপটে বিএনপির করণীয় নির্ধারণ করতে দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত শনিবার। বৈঠকে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠকের আগে বেগম জিয়া তাঁর মামলার কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে মামলার রায়ের পর করণীয় নিয়ে কথা বলেন। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এবং অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে রায়ের বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ে কথা বলেন। বেগম জিয়া জানতে চান রায়ের পর তাঁর জামিন হবে কিনা, উত্তরে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘তিন বছরের নিচে কারাদণ্ড হলে, বিচারিক আদালতই তাঁকে আপিল দায়ের করা পর্যন্ত সময়ে অন্তবর্তীকালীন জামিন দিতে পারে।’ বেগম জিয়া জানতে চান, ‘যদি ৩ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেয়?’

ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার জানান, ‘সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে হবে।’ বেগম জিয়া জানতে চান বৃহস্পতিবার রায় দেবে, ওই দিনই কি জামিন পাওয়া সম্ভব। এ সময় এডভোকেট খোকন বলেন, ‘এটা সম্ভব। আমরা আগে থেকে পিটিশন রেডি করে রাখলাম। কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে থাকল। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পিটিশান ফাইল করল। ’ কিন্তু ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালতের রায়ের সার্টিফায়েড (সত্যায়িত) কপি ছাড়া এই জামিন আবেদন হাইকোর্ট কগনিজেন্সে (আমলে) নেবে না হয়তো।’ বেগম জিয়া জানতে চান , হাইকোর্ট থেকে জামিন পেতে কতদিন লাগতে পারে। উত্তরে ব্যারিস্টার জমির জানান, অন্তত এক সপ্তাহ, আর খোকন বলেন তিনদিন। বৈঠকের পর বেগম জিয়া দুজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি এখনই চূড়ান্ত আন্দোলনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। বেগম জিয়ার এখনো বিশ্বাস, শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত তাঁকে জেলে নেবেন না। তিনি ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা দুজনেই তো সেসময় কারাগারে ছিলাম। কাজেই সে (শেখ হাসিনা) তো কারাগারের কষ্ট বোঝে। আমার মনে হয় না সে এটা করবে।’

বেগম জিয়া আন্দোলনের চেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিতে বলেন। ‘রায়ে তো আপনি খালাসও হতে পারেন’ এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বেগম জিয়াও আশান্বিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু বলেন, ‘প্রস্তুতি রাখতে দোষ কি।’ বিএনপির একাধিক সূত্রগুলো বলছে, ‘এখনই বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে চায় না। একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘আদালত দণ্ডিত করলেও বেগম জিয়া জেলে যাচ্ছেন না, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হবেন। জামিনের পরে তিনি বেরিয়ে দলে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।’ বিএনপির ওই নেতা মনে করেন, ‘এটাও সরকারের একটা কৌশল। আমরা আন্দোলনে যাব আর সরকার আমাদের গ্রেপ্তার করবে। নির্বাচনের আগে আমাদের দল আবারও লন্ডভন্ড হয়ে যাবে।’

(Visited 3 times, 1 visits today)