শিরোনাম :
বিজিএমই সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী নারায়ণহাট মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত সিলেট সুনামগঞ্জ বানভাসীদের মাঝে ফেনী জেলা ‘নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশন’ এর ত্রাণ বিতরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন || প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম ট্রিবিউন পরিবারের অভিনন্দন মানবতার নায়ক আবদুস সামাদ স্যার, সবার জন্য অনুসরনীয় রামগঞ্জে খালের উপর থাকা নির্মাণাধীন দুইটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে স্বামী-স্ত্রী মাদক কারবারী, বিশেষ অভিযানে ৫মাদক কারবারী লোহাগাড়ার শ্রীঘরে, ইয়াবা জব্দ বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যান্ত্রিক এবং মানবিক ত্রুটি দূর করতে পারলে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে

বিএনপিকে এখনই মাঠে চায় আ’লীগ

জাকির হোসেন লিটন: একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে এখনই মাঠে চায় আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে বাধ্য করতে সে জন্য নানা কৌশলও নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলার দ্রুত গতি ও গ্রেফতার চাপে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলটির নেতাদের বক্তব্যেরও তির্যক সমালোচনার কৌশল নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতারা। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধীদের এখনই রাজনীতির মাঠে নামাতে চান তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নানা কৌশলের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপ ও আতঙ্ক তৈরি করতে চান ক্ষমতাসীনরা। এতে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির রাজনীতি যত বেশি আন্দোলনমুখী হয়ে উঠবে, দলের নেতাদের ওপর তত বেশি মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রাখা হবে। একইসাথে বিএনপি নেতাদের নামে থাকা পুরনো মামলাগুলো ফের সচল করা হবে। সেই সূত্র ধরে ধড়-পাকড়ও অব্যাহত থাকবে। এভাবে বিএনপি নেতাদের মামলা, গ্রেফতার ও আদালতপাড়ায় ব্যস্ত রেখে নির্বাচনের আগে মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা।

সূত্রগুলো আরো জানায়, নানা কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলা নিয়ে ধীরে সুস্থে এগোনোর পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। অন্য দিকে সরকার চেয়েছে এসব মামলার দ্রুত সমাধান। মামলার গতি বাড়াতে যা যা করার তার সবই করে সরকার। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন ঘিরে এসব মামলার দ্রুত রায় প্রত্যাশা করছিলেন ক্ষমতাসীনরা। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এ রায় ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাইরে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেশ কৌতূহল এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। রায়ে দেশের সাবেক তিনবারের এ প্রধানমন্ত্রীর সাজা হবে নাকি সসম্মানে খালাস পাবেন তা নিয়ে মানুষের ভাবনার শেষ নেই।

অন্য দিকে খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সরকারের ভেতরে। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি এখনই রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে তাদের ধারণা। আর বিএনপি আন্দোলনমুখী হলেই শুরু হবে দমনপীড়ন। তারা যাতে কোনোভাবেই রাজপথ দখলে রাখতে না পারেন সে জন্য মামলা ও ধরপাকড় শুরু হবে। একইসাথে বিএনপি নেতাদের কব্জায় রাখতে পুরনো মামলাগুলো ফের সচল করা হবে।
এ দিকে খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপি যেন মাঠে নামতে না পারে, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠ দখলে রাখবে।

জানা গেছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেতরে ভীতির সঞ্চার করতে রায়ের আগে গ্রেফতার কার্যক্রমও চালানো হবে। খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে এসব প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যেই রায় নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দাবি-দাওয়া নিয়ে বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না। আমরা মাঠে আছি। সে জন্য চাই তারা এখনই মাঠে আসুক। মাঠেই তাদের মোকাবেলা করা হবে।

দলটির সিনিয়র দুইজন নেতা বলেন, ‘সরকার যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। ওই সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করে অন্যায় দাবি আদায়ের কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। যা হওয়ার আগেই হয়ে যাক।’

তাদের একজন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায়ের পরই সব কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। রায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আন্দোলনে নামলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচন পর্যন্ত অনেক সিনিয়র নেতা ও কর্মীদের আদালতের বারান্দা ও কারাগারেই কাটাতে হবে। তারা বেরিয়ে হয়তো দেখবেন নির্বাচনও শেষ। আর নির্বাচনের ট্রেন মিস করে বিএনপি এবার ঠিক জাদুঘরে ঢুকে যাবে।’

মধ্যমপর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ‘দেশে আন্দোলনের নানা ইস্যু থাকলেও বিএনপি কোনো ইস্যুতেই রাজপথে দাঁড়ায়নি। রাজপথে হরতাল অবরোধ বা জ্বালাও পোড়াও করার সাহস পায়নি। আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে তাদের নানাভাবে তিরস্কার করা হলেও এখন পর্যন্ত মাঠে নামছে না। সে জন্য তাদের সাইজ করা যায়নি। এবার খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে চাই তারা মাঠে নামুক। আর মাঠে নামলে সবাইকে আবার সাইজ করা হবে।’

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠ দখলে রাখবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে এ কর্মসূচি আরো জোরদার করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা চাই বিএনপি স্বাভাবিক ও সুস্থ রাজনীতি নিয়ে মাঠে আসুক। কিন্তু দলটির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের রায় নিয়ে মাঠে নামলে মেনে নেয়া হবে না। তাদের অন্যায় আন্দোলন ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় আদালতের বিষয়। কিন্তু দুর্নীতির এ রায় ঘিরে দেশে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। বিএনপির জন্য আইনিভাবে প্রতিবাদ করার সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে মাঠে নেমে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইলে তাদের পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে।

(Visited 10 times, 1 visits today)